সরাসরি রেডিও সম্প্রচার সরাসরি ভিডিও সম্প্রচার
০৪:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নির্বাচনে তারুণ্যের ‘ভঙ্গুর শক্তি’

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময়ঃ ১২:৫৬:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৩৮ বার পড়া হয়েছে।

জেন-জি বা জেনারেশন জেড-এর নেতৃত্বাধীন গণ-আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তরুণদের দলগুলোর জন্য রাজপথের উত্তাপকে ব্যালটে রূপান্তর করা যে কতটা কঠিন, তা ফুটে উঠেছে ফলাফলে।বাংলাদেশের নির্বাচনে ৩০০ আসনের সংসদে তরুণদের গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মাত্র ৬টি আসন পেয়েছে। বিপরীতে ভোটাররা বেছে নিয়েছেন দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত  বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি)। এই দল তিনবার দেশ পরিচালনা করেছে। সর্বশেষ তাদের শাসনামল ছিল ২০০১-২০০৬ সাল।

জোটের কারণে বিশ্বাসহীনতার অনুভূতি

এনসিপির অনেক সমর্থক বলেছেন, ডিসেম্বরে আরেকটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক শক্তি ইসলামপন্থী দল হিসেবে পরিচিত ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার কারণেই এনসিপি কার্যত লড়াই থেকে ছিটকে পড়ে।

শুরুতে দলটি ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করলেও শেষ পর্যন্ত জোটের অধীনে মাত্র ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এনসিপির দাবি, ঢাকায় অভ্যুত্থানের এক অগ্রসৈনিক নিহত হওয়ার পর তারা একটি বড় শক্তির সমর্থন প্রয়োজন মনে করায় এই জোটে যোগ দিয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে পর্যাপ্ত জনসমর্থন তৈরি করতেও ব্যর্থ হয়েছে এনসিপি।

২৩ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সোহানুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর মানুষের যে আশা-আকাঙ্ক্ষা ছিল, তা এনসিপি পূরণ করতে পারেনি।

তিনি বলেছেন, জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির জোট আমাদের মতো অনেক তরুণ ভোটারের কাছে একটি বড় বিশ্বাসঘাতকতা বলে মনে হয়েছে, তাই তাদের সমর্থন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।

এনসিপি থেকে এবারের নির্বাচনে যে ছয়জন জয়লাভ করেছেন তাদের মধ্যে একজন ৩২ বছর বয়সী আইনজীবী ও দলের যুগ্ম সম্পাদক আবদুল্লাহ আল আমিন। তিনি বলেন, তার দল আরও বেশি আসনে জয়ের আশা করেছিল। তার দাবি, অনেক আসনেই তারা খুব সামান্য ব্যবধানে হেরেছে।

আবদুল্লাহ আল আমিন বলেন, জামায়াতের সঙ্গে জোট করায় এনসিপি এসব আসনে জয় পেয়েছে। তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক শাকিল আহমেদ বলেন, এই জোটের সেইসব তরুণ ভোটারকে দূরে ঠেলে দিয়েছে যারা শেখ হাসিনার পতনের পর একটি সম্পূর্ণ নতুন রাজনৈতিক শ্রেণি আবির্ভূত হোক তা দেখতে চেয়েছিল।

এনসিপি’র মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ জানান, দলটি বিরোধী শিবিরে থেকে নিজেদের পুনর্গঠন করবে এবং আগামী এক বছরের মধ্যে হতে যাওয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিকে নজর দেবে।

রয়টার্স বলছে, এনসিপির প্রধান নাহিদ ইসলাম গত ডিসেম্বরে জানিয়েছিলেন নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার জন্য তারা পর্যাপ্ত সময় পাননি। এ ছাড়া তহবিলের অভাব এবং নারী ও সংখ্যালঘুদের অধিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে অস্পষ্ট অবস্থানের কারণেও দলটি পিছিয়ে পড়েছে।

এবারের নির্বাচনে তরুণদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরাজিত প্রার্থী হলেন ৩১ বছর বয়সী চিকিৎসক তাসনিম জারা। তিনি গত ডিসেম্বরে জোট গঠনের প্রতিবাদে এনসিপি ছেড়ে ঢাকা থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করেছিলেন।

জারা ৪৪ হাজারের বেশি ভোট পেলেও বিএনপি প্রার্থীর কাছে বড় ব্যবধানে হেরে যান। তিনি বলেছেন, আমরা দেখিয়েছি যে একটি পরিচ্ছন্ন ও সৎ প্রচারণার মাধ্যমে মানুষের হৃদয় জয় করা সম্ভব। কিন্তু আমাদের সীমাবদ্ধতাগুলোও স্পষ্ট হয়েছে।প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা আমাকে আশাবাদী করেছে এবং ব্রিটেনে চিকিৎসা পেশায় ফিরে যাবেন না বলে জানান জারা। তিনি বলেছেন, আমাদের সেরা দিনগুলো এখনো সামনে পড়ে আছে।

নিউজটি শেয়ার করুন
ট্যাগসঃ

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন