ডা. আসাদের দুর্নীতির খতিয়ান: সাদা কাগজে বিল তুলে সরকারি অর্থ লোপাট!

- আপডেট সময়ঃ ০৯:২৩:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৩৩ বার পড়া হয়েছে।

রাজশাহী বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এখন অনিয়ম, দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনার আখড়ায় পরিণত হয়েছে। খোদ প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. আসাদুজ্জামান আসাদের বিরুদ্ধেই উঠেছে গুরুতর সব অভিযোগ। সরকারি চেয়ারে বসে নিজের আধিপত্য বিস্তার, ক্লিনিক বাণিজ্য আর ভুয়া রোগী সাজিয়ে ডায়েট বিল তোলার মতো নজিরবিহীন কাণ্ড এখন এই হাসপাতালের নিত্যদিনের চিত্র।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ডা. আসাদুজ্জামান আসাদ স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ার সুবাদে কাউকেই তোয়াক্কা করেন না। সরকারি হাসপাতালে সময় দেওয়ার চেয়ে বাইরের বিভিন্ন ক্লিনিকে অপারেশন করতেই তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সখ্য থাকায় সাধারণ রোগীদের ভোগান্তি নিয়ে তাঁর কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। কেউ প্রতিবাদ করলে উল্টো নাজেহাল হতে হয় বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাসপাতালের রোগীদের খাবারের (ডায়েট) বরাদ্দে চলছে হরিলুট। সরকারি অর্থ পকেটে ভরতে সাদা কাগজে রোগীর ভুয়া নাম লিখে ডায়েট বিল তৈরি করা হচ্ছে। এমনকি পুরুষ ওয়ার্ডে মাত্র একজন রোগী ভর্তি থাকলেও নথিপত্রে ২০ জন রোগীর খাবারের বিল উত্তোলনের মতো চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। প্রতিদিনের রেজিস্টার খাতা এবং সিসি ক্যামেরা ফুটেজ যাচাই করলেই এই ‘ভূতুরে’ রোগীর রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ডা. আসাদের দুর্নীতির হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না সহকর্মীরাও। নারী কর্মচারীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি মঞ্জুর করতে মোটা অঙ্কের নগদ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। টাকা না দিলে ছুটি নিয়ে হয়রানি করা হয় বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন।
হাসপাতালের প্রতিটি কোণে যেন দালালদের রাজত্ব। দালাল চক্রের হাতে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনরা।
অভিযোগ রয়েছে, এসব দালালদের সাথে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পরোক্ষ যোগসাজশ রয়েছে। এছাড়া ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের কাছ থেকে নিয়মিত আর্থিক সুবিধা ও উপহার নেওয়ার বিনিময়ে হাসপাতালের রোগীদের নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের ওষুধ কিনতে বাধ্য করার অভিযোগও দীর্ঘদিনের।
হাসপাতালের সিসি ক্যামেরা, প্রতিদিনের ভর্তি ও ডিসচার্জ হওয়া রোগীর রেজিস্টার খাতা পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করলেই এই বিশাল দুর্নীতির প্রমাণ মিলবে।
এই অনিয়মের সিন্ডিকেট ভাঙতে স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে বাঘাবাসী।
অভিযোগের বিষয়ে ডা. আসাদুজ্জামান আসাদের নাম্বারে ফোন দিলে রিসিভ না করাই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস আই এম রাজিউল করিম বলেন, অভিযোগের বিষয় টি খতিয়ে দেখা হবে যদি কোন অনিয়ম হয়ে থাকে তবে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

















