কেকের আব্দার করেছিল বোন। কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে সেই কেক আনতে সড়ক পার হচ্ছিলেন ১৯ বছর নিশাত জান্নাত। কিন্তু কেক নিয়ে বাসায় ফেরা হলো না তার। মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। ঘটনাটি ঘটেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স এলাকায়। নিহত নিশাত বাংলাদেশের সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকার বাসিন্দা। ২০১৭ সালে পরিবারের সাথে ইমিগ্র্যান্ট হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রোববার (২৯ মার্চ ) গভীর রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে কুইন্সের উডসাইড এলাকায় তিনি সড়ক পার হওয়ার সময় একটি ময়লাবাহী ট্রাকের ধাক্কায় নিহত হন। নিহত নিশাত জান্নাতের বাবা হেলাল আহমদ কুইন্সের উডসাইড এলাকার বায়তুল জান্নাহ মসজিদের ইমাম। উডসাইড এলাকার একটি বাসায় বাস করেন তিনি।
পুলিশ জানায়, উডসাইডের রুজভেল্ট অ্যাভিনিউ ও ৬২তম স্ট্রিটের সংযোগস্থলে ( বাংলাদেশশি মালিকাধীন গ্রোসারি ফুড ফেয়ার) রাত প্রায় ১১টা ৫৫ মিনিটে এই দুর্ঘটনা ঘটে। সে সময় নিশাত ক্রসওয়াক দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। পশ্চিমমুখী রুজভেল্ট অ্যাভিনিউ দিয়ে আসা ‘রয়্যাল ওয়েস্ট সার্ভিসেস’-এর একটি স্যানিটেশন ট্রাক ডান দিকে ঘুরে ৬২তম স্ট্রিটের উত্তরমুখী লেনে ওঠার সময় তাকে ধাক্কা দেয়। পুলিশের মতে, সংযোগস্থলের উত্তর পাশে এই আঘাত লাগে। ঘটনাস্থলেই ইএমএস কর্মীরা নিশাতকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বড় বোন নওশিন জান্নাত সোমবার সকালে বলেন, ‘আমার বাবা-মা ভেঙে পড়েছেন। ঘরের ভেতর সবাই কাঁদছেন।’
বড় বোন নওশিন জান্নাত জানান, নিশাত জ্যামাইকার পারসন্স বুলেভার্ডে একটি পার্কিং গ্যারেজে রিসেপশনিস্ট হিসেবে কাজ করতেন। সেখানে তিনি কালো ইউনিফর্ম পরতেন। রোববার রাত ১১টার দিকে কাজ শেষ করে ছোট বোনের জন্য কেক আনতে নিশাত উডসাইড ট্রেন স্টেশনে নামেন। এরপর আর কথা না হওয়ায় এবং বাসায় না ফেরায় নওশিন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে তিনি নিশাতের ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে রাত প্রায় ২টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান, যেখানে তিনি চারপাশে পুলিশ দেখতে পান।
নওশিন আরও বলেন, ‘আমার বোন খুব আশাবাদী ছিল। সে সবসময় মানুষকে বলত, আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে। কিন্তু কিভাবে কি হয়ে গেলো আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না।’
দুর্ঘটনায় জড়িত স্যানিটেশন ট্রাকটির চালক ছিলেন ৩৮ বছর বয়সী একজন নারী। দুর্ঘটনার পর তিনি ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন। তিনিও সামান্য আঘাতের জন্য চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের হাইওয়ে ডিস্ট্রিক্টের কলিশন ইনভেস্টিগেশন স্কোয়াড বিষয়টি তদন্ত করছে।
এদিকে রয়েল ওয়েস্ট সার্ভিসেস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা তদন্তে পুলিশকে সহযোগিতা করছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক প্রতিষ্ঠান ‘ওয়েস্ট কানেকশনস’-এর এক মুখপাত্র বলেন, “কুইন্সে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। রয়্যাল ওয়েস্ট সার্ভিসেসের পক্ষ থেকে আমরা নিহতের পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি। চলমান তদন্তের স্বার্থে এবং সংশ্লিষ্টদের গোপনীয়তার প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করছি না।”
উল্লেখ্য, নিহত নিশাত জান্নাত চার বোনের মধ্যে দ্বিতীয় ছিলেন। স্থানীয় মসজিদে তার জানাযা শেষে কোনও একটি কবরাস্থানে তার দাফন করার কথা রয়েছে।
প্রধান সম্পাদক ঃ আবুবকর সিদ্দিক সুমন , নির্বাহী সম্পাদকঃ রুবেল হাসনাইন , বার্তা সম্পাদক ঃ মিসবাহ উদ্দিন
গুলশান, ঢাকা-১২১৬, বাংলাদেশ। ইমেইলঃ admin@sylhet21.com মোবাইলঃ +1586 665 4225
© 2026 সিলেট ২১ সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত। | Developed Success Life IT