সরাসরি রেডিও সম্প্রচার সরাসরি ভিডিও সম্প্রচার
০৬:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ না খেললে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জন করতে পারে পাকিস্তানও

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময়ঃ ০২:৩৮:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৭৯ বার পড়া হয়েছে।

আগামী মাসে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ যদি অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে পাকিস্তানও এই টুর্নামেন্ট বর্জন করতে পারে বলে জোরালো সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা জনিত উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাদের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় নেওয়ার যে দাবি জানিয়েছিল, তা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) প্রত্যাখ্যান করেছে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) জিও নিউজ জানিয়েছে, ঢাকা যদি ভারতের মাটিতে খেলতে অস্বীকার করে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়, তবে সংহতি জানিয়ে পাকিস্তানও এই মেগা ইভেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিতে পারে। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ার এই বৃহৎ ক্রিকেট আসরটি এক বিশাল অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাবে ক্রিকেটীয় সম্পর্ক চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্সের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও মোস্তাফিজুর রহমানকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয় ঢাকা। এর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকার দেশে আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ করে এবং বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ভারতের বদলে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের দাবি তোলে।

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আইসিসির কাছে সময় চেয়েছেন এবং আজই বাংলাদেশ সরকার খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের সফর নিয়ে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করবে বলে জানা গেছে। যদিও বিসিবির অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, অধিকাংশ সিনিয়র ক্রিকেটারই বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।

আইসিসি তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট করে দিয়েছে, সুনির্দিষ্ট এবং গ্রহণযোগ্য কোনো নিরাপত্তা হুমকি ছাড়া বর্তমান সময়সূচী পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। সংস্থাটি মনে করে, রাজনৈতিক কারণে সূচী পরিবর্তন করলে তা ভবিষ্যতে আইসিসি ইভেন্টগুলোর পবিত্রতা ও শৃঙ্খলা নষ্ট করবে।

এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সামনে এখন দুটি পথ খোলা আছে—হয় তাদের দাবি প্রত্যাহার করে ভারতের মাটিতে খেলতে যাওয়া, নয়তো অন্য কোনো দল দিয়ে প্রতিস্থাপিত হওয়া। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া এই আসরে বাংলাদেশ গ্রুপ ‘সি’-তে রয়েছে এবং নির্ধারিত সূচী অনুযায়ী তাদের প্রথম তিনটি ম্যাচ কলকাতার ইডেন গার্ডেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইতালি ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এছাড়া গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মুম্বাইয়ে নেপালের মুখোমুখি হবে টাইগারা।

অন্যদিকে পাকিস্তানের সম্ভাব্য বয়কটের হুমকি আইসিসির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। পাকিস্তান ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আইসিসি যদি ঢাকার দাবিকে ন্যূনতম গুরুত্ব না দেয়, তবে তারাও এই প্রতিযোগিতায় অংশ না নেওয়ার কথা গুরুত্ব সহকারে ভাবছে।

ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপে যদি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো দুটি বড় দল অংশ না নেয়, তবে তা বাণিজ্যিক ও দর্শকপ্রিয়তার দিক থেকে টুর্নামেন্টটিকে বড় ধরনের বিপর্যয়ে ফেলবে। বর্তমানে সব পক্ষের দৃষ্টি আজ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া খেলোয়াড় ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের দিকে, যেখান থেকেই নির্ধারিত হবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ভাগ্য।

নিউজটি শেয়ার করুন
ট্যাগসঃ

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন