পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত চার ভাইয়ের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, চাঁদাবাজি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাকারিয়া পিন্টু, সোনামনি, মেহেদী হাসান ও জাকির হোসেন জুয়েল নামের এই চার ভাই সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, মাদক পাচার ও পদ্মা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন । অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তাদের তৎপরতার কারণেই পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে বিএনপির ভরাডুবি হয়েছে এবং দলটি এলাকায় চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বহিষ্কৃত চার ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও সম্পদের বিবরণ
মোঃ জাকারিয়া পিন্টু: তিনি ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং সম্প্রতি দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন । তার বিরুদ্ধে নিজ গ্রামে দুইটি ডুপ্লেক্স বাড়ি, ঈশ্বরদী রেলগেট এলাকায় 'সুলভ বাজার' নামক একটি সুপারশপ, ঈশ্বরদী বাংলা মদের ভাটির পিছনে সাড়ে চার বিঘা জমি, পুরাতন ইসলামিয়া হাসপাতাল সংলগ্ন আরামবাগে পাঁচ কাঠার প্লট, ঢাকার বাড্ডায় একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট এবং চারটি নতুন মডেলের প্রাইভেট কার (ঢাকা মেট্রো ঘ-১৭-১৪১০) থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়াও তার নামে ও বেনামে ব্যাংক ও নিজের কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ রয়েছে।
সোনামনি: তার বিরুদ্ধে জোনাপুর ও রামনগর ইউনিয়ন এলাকায় ১০ তলা ফাউন্ডেশনের কমপ্লিট বাড়ি, নাটরের লালপুর থানায় সদ্য ক্রয়কৃত ১০ বিঘা জমি, একটি প্রাইভেট কার ও তিনটি মোটরসাইকেল থাকার অভিযোগ রয়েছে।
মেহেদী হাসান: তিনি ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব । তার বিরুদ্ধে একটি নতুন হ্যারিয়ার গাড়ি, সুলভ বাজারে সাড়ে চার কোটি টাকা বিনিয়োগ, সাড়ামাড়োয়ারি স্কুলের সামনে সুপার শপ, ঢাকার অভিজাত এলাকায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, কাচারীপাড়ায় কোটি টাকার অফিস, আবেদের মোড় এলাকায় পাঁচ বিঘা জমি, রাজশাহীর অভিজাত এলাকায় জমিসহ বহুতল ভবন, পাবনা শহরে সহকারীর নামে কেনা ১০ তলা ফাউন্ডেশনসহ তিন তলা কমপ্লিট ভবন, সহকারী রাজুর নামে ১০টি বালির টাক এবং ঢাকার ওয়ারিতে ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায় বিপুল বিনিয়োগের অভিযোগ রয়েছে।
জাকির হোসেন জুয়েল: তার বিরুদ্ধেও অঢেল সম্পদ, গাড়ি, বাড়ি এবং দেশের বিভিন্ন ব্যবসা ও ইন্টারনেট ব্যবসার মাধ্যমে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা আয়ের অভিযোগ রয়েছে।
সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও মামলার বিবরণ
প্রাপ্ত তথ্যমতে, এই চার ভাইয়ের বিরুদ্ধে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি, জবরদখল ও মাদক চোরাচালানসহ প্রায় ৬৫টি মামলা রয়েছে । যার মধ্যে জাকারিয়া পিন্টু ও মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে একাই ১৬টি হত্যা মামলা রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকে এই চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা বিএনপির নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি, জমি দখল, মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা এবং বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই চক্রটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের শ্রমিক নিয়োগ, ঈশ্বরদী ইপিজেডের ঝুটের ব্যবসা, গার্মেন্টসের বিভিন্ন এক্সেসরিজ সরবরাহ এবং পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় সদর দপ্তরও তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, বিগত ১৭ বছরে তারা এত মামলা দেখেননি, যতগুলো মামলা এই চার ভাই বিএনপির কর্মীদের বিরুদ্ধে দিয়ে তাদের এলাকা ছাড়া করেছেন।
রাজনৈতিক প্রভাব ও জনগণের প্রত্যাশা
স্থানীয়দের দাবি, জাকারিয়া পিন্টু যদি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন না করতেন, তাহলে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব শুধু এমপিই হতেন না, বরং মন্ত্রী হয়ে ঈশ্বরদী-আটঘরিয়ায় ব্যাপক উন্নয়ন করতে পারতেন । বর্তমানে এই চার ভাইয়ের কারণে বিএনপি থেকে সাধারণ মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
সাধারণ মানুষের জরুরি দাবি, প্রধানমন্ত্রী যেন এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে অবিলম্বে এই চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এই চার ভাইয়ের তৎপরতা বন্ধ না করলে বিএনপি এলাকায় সম্পূর্ণরূপে জনসমর্থন হারাবে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের। বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে ইতিমধ্যে এসব ঘটনা সরেজমিন তদন্ত করে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে ।
প্রধান সম্পাদক ঃ আবুবকর সিদ্দিক সুমন , নির্বাহী সম্পাদকঃ রুবেল হাসনাইন , বার্তা সম্পাদক ঃ মিসবাহ উদ্দিন
গুলশান, ঢাকা-১২১৬, বাংলাদেশ। ইমেইলঃ admin@sylhet21.com,sylhet21.com@gmail.com মোবাইলঃ +1586 665 4225