সরাসরি রেডিও সম্প্রচার সরাসরি ভিডিও সম্প্রচার
১১:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

বিয়ানীবাজারে এলপিজি গ্যা-স সং-ক-ট ভো-গা-ন্তি-তে নিম্ন আয়ের মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার:
  • আপডেট সময়ঃ ১০:০২:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২৪ বার পড়া হয়েছে।

সারা দেশের মতো সিলেটের বিয়ানীবাজারেও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ। গ্যাস সংকটের কারণে অনেক পরিবার বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক চুলা কিংবা বাধ্য হয়ে মাটির চুলায় রান্না করতে শুরু করেছেন।

বিশেষ করে পৌরশহরের কলোনিতে বসবাসকারী দিনমজুর ও শ্রমজীবী পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। গ্যাসের অভাবে অনেকেই বারান্দা বা খোলা জায়গায় মাটির চুলায় রান্না করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা সময়সাপেক্ষ ও কষ্টসাধ্য।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ানীবাজারে একাধিক গ্যাস কোম্পানির ডিলার থাকলেও শহর ও আশপাশের এলাকায় মূলত হাসিব এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে সিলিন্ডার গ্যাস সরবরাহ করা হয়। তবে গত তিন দিনে মাত্র একটি গাড়িতে প্রায় ৫০০টি সিলিন্ডার এলেও তা মুহূর্তেই বিক্রি হয়ে যায়। সোমবার ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৪৯০ টাকায়।

হাসিব এন্টারপ্রাইজের ডিলার জাকারিয়া হোসেন জানান, তাদের গুদামে বেশ কিছু খালি সিলিন্ডার থাকলেও গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, “দুই-তিন দিন পরপর একটি গাড়ি আসে, তাতে সাড়ে ৪শ’ থেকে ৫শ’ সিলিন্ডার থাকে। সেগুলো আবার খালি বোতল নিয়ে চলে যায়। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে এ সংকট চলছে। আগে নিজস্ব পরিবহনে দোকানে দোকানে গ্যাস সরবরাহ করতাম, কিন্তু এখন তা বন্ধ রাখতে হয়েছে।”

গ্যাস সংকটে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। পৌরশহরের কলেজ রোডে ভাড়া বাসায় বসবাসকারী গৃহিণী সুফিয়া বেগম জানান, হঠাৎ সংকটের কারণে তাকে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনতে প্রায় ২০০ টাকা অতিরিক্ত গুনতে হয়েছে। একই অভিজ্ঞতার কথা জানান হাসিনা রাইস মিল সংলগ্ন কলোনিতে বসবাসকারী শ্রমজীবী মর্জিনা বেগম। তিনি বলেন, “গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় গত দুই দিন ধরে মাটির চুলায় রান্না করছি। কাঠ, কাঠের গুঁড়ো ও কয়লা কিনতে হচ্ছে। সারাদিন কাজ করে এসে এভাবে রান্না করা খুব কষ্টকর।”

এলপিজি সিলিন্ডার সংকটের প্রভাব পড়েছে অটোগ্যাস স্টেশনগুলোতেও। শহরতলীর হাজী মতিউর রহমান কমপ্লেক্সে অবস্থিত মা ফাতেমা এলপিজি গ্যাস স্টেশনের কর্ণধার কয়ছর আহমদ পাপ্পু জানান, চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, “যেসব গাড়ি গ্যাস নিতে আসছে, তাদের অর্ধেক সিলিন্ডার করে গ্যাস দিতে হচ্ছে। আজকের মধ্যে গ্যাস না এলে আগামীকাল স্টেশন বন্ধ রাখতে হতে পারে।”

এদিকে দ্রুত সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন