সকাল থেকেই মেঘলা আকাশ, সঙ্গে হালকা বৃষ্টির ছোঁয়া—এমন আবহাওয়ার মধ্যেই আধ্যাত্মিক নগরী সিলেটে পৌঁছালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃষ্টিভেজা এই আগমন যেন সফরটিকে আরও আবেগঘন করে তুলেছে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এই প্রথমবার সিলেটে পা রাখলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর এই সফরকে ঘিরে পুরো নগরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রিয় নেতাকে কাছে পেয়ে উচ্ছ্বাসে ভাসছেন নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।
শনিবার সকাল ৯টা ৫৬ মিনিটে তাঁর বহনকারী বিমান সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় নেতারা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এরপর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে তিনি নগরের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
দিনব্যাপী ব্যস্ত সূচির শুরুতেই সকাল সাড়ে ১০টায় হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে শেষবার এখানে এসেছিলেন তিনি, তবে এবার প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদায় তাঁর আগমন নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়তি আবেগ তৈরি করেছে।
সিলেটের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে আজ দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প উদ্বোধন করবেন তিনি। সকাল ১১টায় চাঁদনীঘাট এলাকায় সিলেট সিটি করপোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প এবং দুপুর ১২টায় সদর উপজেলার কান্দিগাঁওয়ে বাসিয়া নদী খননকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নগরীর অবকাঠামোতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।
বিকেলে জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’-এর জমকালো আয়োজন, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তিনি। এরপর বিকেল ৫টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেবেন, যেখানে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা আসতে পারে।
এই সফরকে ঘিরে সিলেটবাসীর প্রত্যাশা এখন তুঙ্গে। বিশেষ করে ঢাকা-সিলেট ছয় লেন সড়ক এবং রেল যোগাযোগের আধুনিকায়ন নিয়ে বড় ঘোষণা আসতে পারে বলে আলোচনা চলছে।
নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো পুরো শহর, রঙিন তোরণ, ব্যানার-ফেস্টুন আর বৃষ্টির মধ্যেও মানুষের ঢল—সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর সিলেটের রাজনীতি ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে।