সরাসরি রেডিও সম্প্রচার সরাসরি ভিডিও সম্প্রচার
০৪:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬
হরমুজ প্রণালি বন্ধ, সুয়েজ-লোহিত সাগরে ঝুঁকি; জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা

মধ্যপ্রাচ্য সংকট: ভূমধ্যসাগরে ‘শার্ল দ্য গোল’ পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময়ঃ ০২:১৩:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
  • / ১ বার পড়া হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিজেদের শক্তিশালী পরমাণু শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ‘শার্ল দ্য গোল’ ভূমধ্যসাগরে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন। ম্যাক্রোঁ জানান, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেছে এবং সুয়েজ খাল ও লোহিত সাগরের নৌপথ চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববাণিজ্যের নিরাপত্তা বজায় রাখতে ফ্রান্স একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে তিনি জানান।

প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ বলেন, চলমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা ফ্রান্সের অর্থনৈতিক স্বার্থের পরিপন্থী। তিনি বলেন, “আমাদের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করতে হবে, কারণ এই যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও বাণিজ্যের স্থিতিশীলতা গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

নিজেদের কৌশলগত অবস্থান জোরদার করতে ফ্রান্স ইতোমধ্যে সাইপ্রাসে-এ একটি ফ্রিগেট পাঠিয়েছে। পাশাপাশি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মিত্র দেশগুলোর আকাশসীমায় অনুপ্রবেশকারী একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এসব অভিযানে ফরাসি বিমানবাহিনীর অত্যাধুনিক ‘রাফাল’ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হচ্ছে।

ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রসঙ্গ টেনে ম্যাক্রোঁ বলেন,কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে তাদের দৃঢ় প্রতিরক্ষা সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ায় ফ্রান্স তাদের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত ফরাসি নাগরিকদের সুরক্ষার বিষয়ে তিনি জানান, যারা অঞ্চলটি ছাড়তে চান তাদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দুটি বিশেষ ফ্লাইট প্যারিসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। পাশাপাশি দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিষয়ে ম্যাক্রোঁ এক ভারসাম্যপূর্ণ কিন্তু কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তার মতে, চলমান পরিস্থিতির জন্য ইরান প্রাথমিক দায়ভার বহন করলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইনের বাইরে পরিচালিত হয়েছে।

তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে; এগুলো আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন করে পরিচালিত হয়েছে, যা আমরা অনুমোদন করতে পারি না।”

ফ্রান্স যেকোনো মূল্যে সংঘাত নিরসন এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কূটনৈতিক ও সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রাখবে বলেও পুনর্ব্যক্ত করেন প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ।

নিউজটি শেয়ার করুন
ট্যাগসঃ

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন