সরাসরি রেডিও সম্প্রচার সরাসরি ভিডিও সম্প্রচার
০২:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে চিকিৎসা সেবা

মাধবপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময়ঃ ০১:৩৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৫৫ বার পড়া হয়েছে।

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এর পুরোনো দ্বিতল ভবনটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ভবনের ছাদ ও বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ছে, বিমে ফাটল ধরে রড বের হয়ে গেছে। বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে শয্যা ও মেঝে ভিজে যায়। ফলে রোগী, চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জীবন ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসাসেবা প্রদান করছেন।

জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি প্রথমে ৩১ শয্যার প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে এটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। উন্নয়নকাজের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর পুরোনো ভবনের পাশে একটি নতুন তিনতলা ভবন নির্মাণ করে। নতুন ভবনের নিচতলায় চিকিৎসকদের চেম্বার, শিশুদের টিকাদান কক্ষ ও সভাকক্ষ এবং দ্বিতীয় তলায় অস্ত্রোপচার কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে।

তবে স্থান সংকুলান না হওয়ায় পুরোনো ভবনের দুটি ওয়ার্ডে এখনও ৩১টি শয্যা চালু রয়েছে। এর মধ্যে ১৯ শয্যার নারী ও শিশু ওয়ার্ড এবং ১২ শয্যার পুরুষ ওয়ার্ড রয়েছে। এছাড়া নিচতলার একটি কক্ষে জরুরি বিভাগ (ইমার্জেন্সি) চালু রয়েছে।

জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালনরত চিকিৎসক ডা. মিয়াজী তানভীর ইয়ামিন বলেন, “পুরোনো ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা আতঙ্কের মধ্যেই রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছি।”

পরিদর্শনে দেখা যায়, জরুরি বিভাগের রোগী শয্যার ঠিক ওপরের ছাদে পলেস্তারা খসে পড়েছে এবং রড বের হয়ে আছে, যা যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

রোগী ও স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, ভবনের দেয়াল স্যাঁতসেঁতে, কক্ষগুলো অপরিচ্ছন্ন এবং ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও বাধ্য হয়ে এখানে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

কর্তব্যরত এক নার্স জানান, “ঝুঁকি জেনেও আমাদের সেবা দিতে হচ্ছে, কিছু করার নেই।”

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইমরুল হাসান জাহাঙ্গীর বলেন, “পুরোনো ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি আমরা একাধিকবার স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। তারা পরিদর্শন করে ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে।”

এদিকে, পলেস্তারা খসে পড়ে আহত হওয়ার আশঙ্কায় এক কর্মচারীকে মাঝে মাঝে হেলমেট পরে জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে।

স্থানীয়রা দ্রুত ভবনটি সংস্কার বা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন
ট্যাগসঃ

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন