সরাসরি রেডিও সম্প্রচার সরাসরি ভিডিও সম্প্রচার
১২:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

ম-ধ্য-প্রা-চ্যে-র উ-ত্তে-জ-না-য় প্র-বা-সী-দে-র দু-শ্চি-ন্তা, বিয়ানীবাজারে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা

মিসবাহ উদ্দিন :
  • আপডেট সময়ঃ ১১:৩৪:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
  • / ৩৭ বার পড়া হয়েছে।

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সিলেটের বিয়ানীবাজারে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। পৌরশহরের বিভিন্ন শপিংমল ও বিপণিবিতানে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রবাসী পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে প্রবাসীদের আয় ব্যাহত হতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে ঈদের বাজার ও প্রবাসী পরিবারগুলোর আনন্দে।
বিয়ানীবাজার পৌরশহরের বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, নারী, পুরুষ ও শিশুদের পোশাকের দোকানগুলোতে উপচেপড়া ভিড়। নতুন ডিজাইনের থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি ও শিশুদের পোশাক কিনতে আগ্রহী ক্রেতারা দোকানগুলোতে ভিড় করছেন। তবে অনেক ক্রেতার অভিযোগ, আগের তুলনায় পোশাকের দাম কিছুটা বেশি।
ক্রেতারা জানান, বাজারে বিভিন্ন নতুন ডিজাইন ও ভালো মানের পোশাক পাওয়া গেলেও দাম তুলনামূলক বেশি। তাদের ধারণা, ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে দাম আরও বাড়তে পারে।
এ বছর দেশীয় পোশাকের চাহিদা বেশি দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। মার্কেটগুলো প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত সরগরম থাকছে। ব্যবসায়ীদের মতে, রমজানের শুরুতে বিক্রি কিছুটা কম থাকলেও এখন ক্রেতার সংখ্যা বাড়ছে।
বিয়ানীবাজার পৌরশহরের জামান প্লাজা, হাজী আব্দুস সাত্তার শপিং কমপ্লেক্স, আল-আমিন সুপার মার্কেট, আজির মার্কেট ও অন্যান্য বিপণিবিতানে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে রেডিমেড পোশাকের দোকানগুলোতে বেশি বেচাকেনা হচ্ছে। শহরে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২০০টি কাপড়ের দোকান রয়েছে এবং প্রতিদিন প্রায় কোটি টাকার বেচাকেনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
পরিবারসহ ঈদের বাজার করতে আসা সামসুল হক বলেন, “আর কয়েকদিন পর দোকানে প্রচুর ভিড় হবে। তাই একটু আগেই বাচ্চাদের জন্য নতুন পোশাক কিনতে এসেছি। ভালো জিনিসের দাম একটু বেশি হওয়াটা স্বাভাবিক। গত বছরের মতোই দাম রয়েছে। সাধ্যের মধ্যেই কেনাকাটা করেছি।”
বিয়ানীবাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি রেজাউল করিম শামীম বলেন, রমজানের ৫ রোজা থেকে বেচাকেনা শুরু হয়েছে। বিগত বছরের তুলনায় এবার বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। রমজানের ২৯ রোজা বা চাঁদরাত পর্যন্ত কেনাবেচা চলবে। তিনি আরও জানান, ক্রেতাদের কাছে এবার দেশীয় পোশাকের চাহিদা বেশি, বিশেষ করে মেয়ে শিশু ও তরুণীদের পোশাকের চাহিদা বেশি।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বিয়ানীবাজারের প্রবাসী পরিবারের সদস্যরা উদ্বেগের মধ্যে দিন পার করছেন। অনেকেই শুধু জীবনহানির ভয় নয়, চাকরি হারানোর আশঙ্কাতেও ভুগছেন।
দুবাইয়ে একটি রেস্টুরেন্টে কর্মরত চারখাই এলাকার বাসিন্দা রায়হান মোবাইল ফোনে জানান, “শনিবার মাগরিবের আজানের সময় ইফতার করতে বসেছিলাম। তখন আল উদেইদ ঘাঁটিতে একের পর এক মিসাইল আঘাত হানে। বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। মনে হচ্ছিল মৃত্যুর খুব কাছাকাছি চলে এসেছি।”
অন্যদিকে আবুধাবিতে থাকা পৌরসভার বাসিন্দা মোহাম্মদ আমির হোসেন জানান, সেখানে কয়েকবার মিসাইল হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবার বিস্ফোরণের সময় মনে হয়েছে যেন ভূমিকম্প হচ্ছে।
বিয়ানীবাজারে অনেক পরিবার প্রবাসী নির্ভশীল এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিয়ানীবাজারের ঈদ অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেক প্রবাসী দৈনিক শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। যুদ্ধের কারণে অনেকেই ঘর থেকে বের হতে পারছেন না, ফলে তাদের আয় বন্ধ হয়ে গেছে।
স্বজনরা জানান, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে অনেক প্রবাসী ঈদের আগে দেশে টাকা পাঠাতে পারবেন না। এতে প্রবাসী পরিবারগুলোর ঈদের আনন্দ ম্লান হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিয়ানীবাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ পরিষদের সভাপতি রেজাউল করিম শামীম বলেন, “এখনো ঈদের বাজার পুরোপুরি জমে ওঠেনি। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কিছুটা প্রভাব পড়েছে এখানে। সাধারণত প্রবাসীরা ১৫ রমজানের পর ঈদের জন্য টাকা পাঠান। কিন্তু এবার তার আগেই যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে।”
তিনি আরও জানান, অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ না করেই কিছু মালিক নিরাপদে মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে চলে গেছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা প্রবাসীদের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন
ট্যাগসঃ

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন