চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় এক প্রবাসীর বাড়িতে সংঘটিত দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের নয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিচালিত অভিযানে তাদের আটক করা হয়। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) মধ্যরাতে রাউজান থানার পাহাড়তলী ইউনিয়নের দেওয়ানপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, ১৪ থেকে ১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে প্রবাসীর পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে। পরে তাদের একটি কক্ষে আটকে রেখে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোনসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে পুলিশ। স্থানীয়দের সহায়তায় অল্প সময়ের মধ্যেই ডাকাতদের শনাক্ত করা হয়। এরপর পাহাড়তলী ও বাগোয়ান ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় রাতভর অভিযান চালিয়ে নয়জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে একটি লকেটসহ চেইন, এক জোড়া কানের দুল, ১৩টি হাতের চুড়ি, তিনটি ব্রেসলেট, একটি হাতঘড়ি, নগদ ৪,৯৮৪ টাকা, একটি মোবাইল ফোন এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত স্ক্রু ড্রাইভার, প্লাস ও রেঞ্জসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান জানান, গ্রেফতারকৃতরা একটি পেশাদার ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য। চক্রটির মূলহোতা ফজর আলী চট্টগ্রামের হলেও অধিকাংশ সদস্য সিলেটের হবিগঞ্জ এলাকা থেকে এসে ডাকাতি করত। ঘটনার দিন সকালে তারা হবিগঞ্জ থেকে বাস ও ট্রেনে করে চট্টগ্রামে আসে এবং সন্ধ্যার পর পাহাড়তলী এলাকায় অবস্থান নেয়। পরে রাত ১১টার দিকে টার্গেট করা বাড়ির আশেপাশে লুকিয়ে থেকে ডাকাতির ঘটনা ঘটায়।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন— হবিগঞ্জের বাহুবল থানার কবির হোসেন ওরফে জীবন (৪৬), মাধবপুর থানার আশিক (৪২), বুদু মিয়া (২২), আবুল কালাম (২২), মো. মিটু (২৮) ও মো. মামুন মিয়া (৩০); সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার আলী আহম্মদ ওরফে মনু মিয়া (২৩) ও গোলাপগঞ্জ থানার মনোয়ারুজ্জামান ইমন (২৭); এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর থানার আবুল হোসেন (৩২)।
তবে চক্রটির মূলহোতা ফজর আলী ও সহযোগী আমিন আলী এখনও পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে কবির হোসেনের বিরুদ্ধে ১৩টি, আশিকের বিরুদ্ধে ৫টি, মনোয়ারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ১১টি, মামুনের বিরুদ্ধে ১০টি, মিটুর বিরুদ্ধে ৩টি এবং অন্যান্যদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। পলাতক ফজর আলীর বিরুদ্ধে ২৯টি এবং আমিন আলীর বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা রয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হলেও পুলিশের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ ও স্থানীয়দের সাহসী ভূমিকার ফলে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রধান সম্পাদক ঃ আবুবকর সিদ্দিক সুমন , নির্বাহী সম্পাদকঃ রুবেল হাসনাইন , বার্তা সম্পাদক ঃ মিসবাহ উদ্দিন
গুলশান, ঢাকা-১২১৬, বাংলাদেশ। ইমেইলঃ admin@sylhet21.com মোবাইলঃ +1586 665 4225
© 2026 সিলেট ২১ সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত। | Developed Success Life IT