চারদিকে পানিতে থইথই, পানির নিচে পঁচন ধরেছে ধান। এতোদিন আবহাওয়া অনূকূলে না থাকায় অধিকাংশ কৃষকদের মাড়ই করা ধানেও ধরেছে পঁচন। এখন ধানের পঁচা গন্ধে চারদিক ভারী হয়ে উটেছে। অনেক উৎকন্ঠা ও দুর্দশায় কৃষকেরা অনেকটাই দিশেহারা হয়ে পরেছে। ওদিকে কৃষকদের ধান শুকানোর একমাত্র সম্বল খলাগুলোও পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন সাবমারসিবল সড়ক হয়ে উটেছে ধান শুকানোর ভরসাস্থল। গেল তিনদিন ধরে রোদ দেওয়ায় হাওরের এই সড়কগুলোতে ধানে পরিপূর্ণ। কৃষকেরা জানান,ধান শুকাতে সাবমারসিবল সড়কগুলো তাদের অনেক উপকারে আসছে। অনেকদিন ধরে আবহাওয়া খারাপ থাকায় ধানে অঙ্করোদগম না গজাতে কৃষকেরা শত শত বস্তুা ধান পানিতে ভিজিয়ে রেখেছিল, এখন সেগুলো পাকা সড়কে শুকানো হচ্ছে।
ভান্ডাবিল হাওরের কৃষক আগুয়াই গ্রামের বাসিন্দা সুরঞ্জিত দাস জানান, ১৮ কের (২৮ শতাংশে ১ কের) জমি করেছিলাম। ১০ কের জমি কোন রকমে কাটতে পারলেও খলা তলিয়ে যাওয়ায় অনেকটা দুঃশ্চিন্তায় ছিলাম। বাড়ির পাশে পাকা সড়কে ধানগুলো শুকাতে পারছি। হাওরের সাবমারসিবল সড়কগুলো তাদের অনেক উপকারে এসেছে। কাশীপুর গ্রামের বাসিন্দা উদগল হাওরের কৃষক সাচ্চু মিয়া বলেন, ১০ কের জমি চাষাবাদ করেছিলাম। ৫ কের জমির মাড়াই করা ধানে ঘেরা (চারা) গজিয়েছে। চারা গজানো ধানগুলো পঁচে গিয়ে একেবারেই নষ্ট হয়েছে গেছে। বাকি ৫ কের জমির ধান হাওরে পানির নিচ থেকে কেটে এনেছি। খলা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ধানগুলো সাবমারসিবল সড়কে শুকাচ্ছি।
কৃষি কর্মকর্তা শুভজিৎ রায় জানান, কৃষকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পার হবে বলে মনে হচ্ছে না। জমির ধান তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি মাড়াই করা ধান নিয়েও কৃষকদের চরম বেকায়দায় পড়েছিল। এখন অনেকেই সাবমারসিবল সড়কে ধান শুকাচ্ছে। বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ছাঁদও ধান শুকানোর জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দুর্যোগ মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনায় ইউনিয়ন পরিষদ ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের তালিকা করা হচ্ছে আমরাও সেখানে সহযোগী হিসেবে রয়েছি। ক্ষতিগ্রস্থ কোন কৃষক তালিকা থেকে যেন বাদ না পড়ে আমরা সে বিষয়ে সজাগ রয়েছি।
প্রধান সম্পাদক ঃ আবুবকর সিদ্দিক সুমন , নির্বাহী সম্পাদকঃ রুবেল হাসনাইন , বার্তা সম্পাদক ঃ মিসবাহ উদ্দিন
গুলশান, ঢাকা-১২১৬, বাংলাদেশ। ইমেইলঃ admin@sylhet21.com মোবাইলঃ +1586 665 4225
© 2026 সিলেট ২১ সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত। | Developed Success Life IT