টানা কয়েক দিনের কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার হাওরাঞ্চল এখন থৈ থৈ পানিতে ভাসছে। পাকা ধান ঘরে তোলার স্বপ্ন যখন কৃষকের চোখে, ঠিক তখনই অকাল জলাবদ্ধতা সেই স্বপ্নে আঘাত হেনেছে নির্মমভাবে।
হঠাৎ বৃষ্টি ও পানির তোড়ে হাওরের নিচু জমিগুলো তলিয়ে গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আরও বৃষ্টির সতর্কবার্তায় আতঙ্ক বাড়ছে কৃষকদের মধ্যে। একদিকে পানিতে ডুবে ধান নষ্ট হওয়ার শঙ্কা, অন্যদিকে চড়া মজুরিতেও মিলছে না শ্রমিক। ফলে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে আধা-পাকা বা কাঁচা ধান কেটে ফেলছেন।
এমন এক কঠিন বাস্তবতায় জগন্নাথপুরের এক হাওরে দেখা গেছে হৃদয়ছোঁয়া দৃশ্য। বাবার একার পক্ষে দ্রুত ধান কাটা সম্ভব নয় বুঝে, স্কুল ড্রেস ছেড়ে কাস্তি হাতে মাঠে নেমেছে চতুর্থ শ্রেণির এক শিশু। কোমরসমান পানিতে দাঁড়িয়ে ছোট ছোট হাতে ধানের আঁটি তুলে দিচ্ছে বাবার হাতে।
শিশুটির বাবা আবেগভরা কণ্ঠে বলেন,
“পানি বেড়ে যাওয়ায় ধান পচে যাচ্ছে। শ্রমিক রাখার সামর্থ্য নেই, আবার খুঁজেও পাওয়া যাচ্ছে না। এই ধান না তুললে সারা বছর কী খাব? তাই বাধ্য হয়ে ছেলেকে সাথে নিয়েছি।”
এদিকে শিশুদের এমন কাজে যুক্ত হওয়া নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ এটিকে দায়িত্ববোধ ও সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখছেন, আবার সচেতন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করছেন শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে।
শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবীদের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষকের চরম অসহায়ত্বই শিশুদের মাঠে নামতে বাধ্য করছে। দীর্ঘ সময় পানিতে কাজ করায় শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, পাশাপাশি পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে।
হাওরাঞ্চলের কৃষকরা এখন সময়ের সঙ্গে লড়াই করছেন। দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পর্যাপ্ত হারভেস্টার মেশিন সরবরাহ না হলে অনেক পরিবারের বছরের একমাত্র ফসল পানিতেই তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রধান সম্পাদক ঃ আবুবকর সিদ্দিক সুমন , নির্বাহী সম্পাদকঃ রুবেল হাসনাইন , বার্তা সম্পাদক ঃ মিসবাহ উদ্দিন
গুলশান, ঢাকা-১২১৬, বাংলাদেশ। ইমেইলঃ admin@sylhet21.com মোবাইলঃ +1586 665 4225
© 2026 সিলেট ২১ সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত। | Developed Success Life IT