ফিরে দেখা ২০২৫: সাদাপাথরকাণ্ডে তোলপাড় দেশ

- আপডেট সময়ঃ ০৮:০০:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৫৭ বার পড়া হয়েছে।

২০২৫ সালের ৯ ও ১০ আগস্ট। একেবারে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। দেশজুড়ে চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ছাপিয়ে যায় সিলেটের ভোলাগঞ্জ থেকে পাথর লুটের কাণ্ড।
সামাজিক মাধ্যমের সুবাদে লুটের দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। যদিও সরকার পতনের পর বিভিন্ন পাথর কোয়ারির পাথর লুট হলেও টনক নড়েনি কারও। কিন্তু দলবেঁধে কথিত শ্রমিকদের সাদাপাথর কেন্দ্রের পাথর লুটে দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়। লুট হওয়া পাথর উদ্ধারে সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামে প্রশাসন। তবে অনেকের মাঝে প্রশ্ন, উপদেষ্টারা আক্রান্ত না হলে এমনটা হতো কিনা।
পরের ২০ দিনের মধ্যে প্রায় ৩০ লাখ টন পাথর উদ্ধার ও দেড় মাসে তা প্রতিস্থাপন করে আগের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হয়। শুধু উদ্ধার ও প্রতিস্থাপন নয়, পাথর লুটে হয় একাধিক মামলা। গ্রেপ্তার হন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীসহ শ্রমিক-ব্যবসায়ীরা। বরখাস্ত হন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাহাব উদ্দিনসহ কয়েকজন। তবে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যাপারে সেভাবে কোনো পদক্ষেপ নজরে আসেনি।
এদিকে পাথরকাণ্ডে জড়িতদের বিষয়ে পৃথক তালিকা তৈরি করে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন ও দুদক। এর মধ্যে দুদক সিলেট মহানগর বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির শীর্ষ ছয় নেতাসহ বিভিন্ন পেশার ৪২ জনের তালিকা করে। জেলা প্রশাসন করে ১৩৭ জনের তালিকা। দুদকের তালিকা নিয়ে সমকাল সংবাদ প্রকাশ করলে তোলপাড় শুরু হয়। সিলেট বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে জড়িত থাকার তথ্যের প্রতিবাদ করে।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, সরকার পতনের পর থেকে দেড় বছরে সিলেটের বিভিন্ন পাথর কোয়ারি ও এলাকার হাজার কোটি টাকার পাথর লুট হয়। এর মধ্যে ৫ থেকে ৭ আগস্ট সাদাপাথর এলাকা থেকে দুইশ কোটি টাকার পাথর লুট হয়। আর ২০২৫ সালের ৯ ও ১০ আগস্ট দুই দিনে শুধু সাদাপাথর এলাকা থেকে পাথর লুট করা হয় ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার। এ ঘটনায় নড়েচড়ে বসে রাষ্ট্র। পাথর উদ্ধারে নামে বিভিন্ন বাহিনী। লুট বন্ধে করা হয় স্টোন ক্রাশার মিলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন। এতে ক্ষুব্ধ হন ব্যবসায়ীর।
সারা বছর পাথর-বালু লুট হলেও প্রাকৃতিক সম্পদের মালিক খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো (বিএমডি) থাকে ঘুমে। কিন্তু সাদাপাথরকাণ্ডের পর প্রথম মামলা করে তারা।
১৫ অক্টোবর কোম্পানীগঞ্জ থানায় বিএমডি যুগ্ম পরিচালক হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা দেড় হাজার লোককে আসামি করে ওই মামলা করেন। এ ছাড়া ভোলাগঞ্জে পাথর লুটে জড়িতদের তালিকা করার নির্দেশ দেন উচ্চ আদালত। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী ২০ আগস্ট সিলেটের জেলা প্রশাসন ১৩৭ জনের তালিকা পাঠায়। সাদাপাথর লুটের ঘটনায় চলতি বছরের শেষদিন পর্যন্ত কমপক্ষে ৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ ও পরিবেশ অধিদপ্তর বাদী হয়ে আরও দুটি মামলা হয় থানাতে।
২০২৫ সালে পাথরকাণ্ড ছাড়াও আলোচিত ঘটনার মধ্যে রয়েছে ১৪ জুন সিলেটের পর্যটনকেন্দ্র জাফলং পরিদর্শনকালে অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও ফাওজুল কবির খানের গাড়িবহর আটকে বিক্ষোভের ঘটনা। স্থানীয় বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল, যুবদল ও শ্রমিক দলের নেতার নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজনকে বহিষ্কারও করে বিএনপি। এ ছাড়া আলোচিত রায়হান হত্যা মামলার প্রধান আসামি বরখাস্ত হওয়া এসআই আকবরের জামিন লাভ ও পালিয়ে যাওয়া এবং ১১ মে ও ১৭ অক্টোবর আদালত পাড়ায় আসামিদের ওপর হামলার ঘটনা ছিল আলোচিত।









