দিরাইয়ে জমি নিয়ে দু’পক্ষের সং/ঘ/র্ষে আ/হ/ত ২০

- আপডেট সময়ঃ ০৩:৫০:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৪৩ বার পড়া হয়েছে।

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের মকসুদপুর গ্রামে জমি নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারী-শিশুসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে ঘন্টাব্যাপী এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে দিরাই থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।
এ ঘটনায় নুরুজ্জামানের পক্ষের আহতরা হলেন, মো. আবু হানিফ (৭৩), আব্দুর রউফ (৩৫), নুর উদ্দিন (৩৫), সালেহ আহমদ (৬২), আবু আহমদ (৬৫), মুহিত (১৫), মামুনুর রশীদ (২৩), মারজান (১৬), সুমি বেগম (৩০), ফুলেছা বিবি (৬৫), নুরুজ্জামান (৪৫)। এরমধ্যে আহত মো. আবু হানিফ ও আব্দুর রউফকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। অন্য আহতরা দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
জানা যায়, মকসুদপুর গ্রামের নুরুজ্জামান ও ফখরুজ্জামানের বাড়ির সীম-সীমানা নিয়ে একই গ্রামের মিহির চৌধুরী ও জিলু মিয়ার সঙ্গে পূর্ব বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমা রয়েছে।
নুরুজ্জামান বলেন, আমি নিরীহ লোক , একা এক পরিবার নিয়ে মকসুদপুর গ্রামে বসবাস করি। গ্রামের প্রভাবশালী মিহির চৌধুরী ও জিলু মিয়া গং আমার বাড়ি জোরপূর্বক দখল করতে চায়। বুধবার দুপুরে আমি ও আমার চাচা আবু আহমদ বাড়ির পাশের হাওরে বোরো জমিতে হালচাষ ও সেচের কাজ করছিলাম। এ সময় মিহির চৌধুরী ও জিলু মিয়ার নেতৃত্বে ৮০/৯০ জন লোক দেশীয় অস্ত্রাদি নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করে। আমরা দৌড়ে পালিয়ে যাই। জমিতে থাকা আমার একটি শ্যালোমেশিন ও ঠেলাগাড়ি হামলাকারীরা নিয়ে যায় এবংএকটি ট্রাক্টর মেশিন ভাংচুর করে জমিতে ফেলে রাখে। এরপর তারা আমার বসত বাড়িতে হামলা করে। আমার বৃদ্ধ পিতা, শিশুপুত্র ও নারীসহ ১১জন লোককে রামদা, সুলপিসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে রক্তাক্ত জখম ও দুটি বসত ঘর ব্যাপক ভাংচুর করে।
ঘটনার বিষয়ে মিহির চৌধুরীকে প্রধান আসামি করে ৭৭ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন বলে জানিয়েছেন নুরুজ্জামান।
এ বিষয়ে মিহির চৌধুরী বলেন, আমাদের গ্রামে বেশ কিছু এজমালি জায়গা রয়েছে, যেগুলো গ্রামের সকলে গোচারণ ও কৃষি কাজে ব্যবহার করেন। এজমালি জায়গার ওপর নুরুজ্জামান বাড়ি করেছেন। এই নিয়ে গ্রামবাসীর সঙ্গে নুরুজ্জামানের বিরোধ চলে আসছে। এরই জেরে বুধবার দুপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আমাদের পক্ষের গুরুতর আহত সাজুল হক (৪৯), রুহেলা (৩৮), আবু আজিদ (১৬) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে। ঘটনার বিষয়ে দিরাই থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিলের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন মিহির চৌধুরী।
দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ এনামুল হক চৌধুরী বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আছে। এক পক্ষের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।


















