সরাসরি রেডিও সম্প্রচার সরাসরি ভিডিও সম্প্রচার
০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেয়াল থেকে ডিজিটালে: বিয়ানীবাজার–গোলাপগঞ্জে নির্বাচনী প্রচারে প্রযুক্তির দখল

মিসবাহ উদ্দিন :
  • আপডেট সময়ঃ ০২:৩২:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৯৫ বার পড়া হয়েছে।

একসময় নির্বাচন মানেই দেয়ালজুড়ে স্লোগান, রঙিন পোস্টার আর ব্যানারের ভিড়। তবে বিয়ানীবাজার–গোলাপগঞ্জে সেই পরিচিত দৃশ্য এখন প্রায় হারিয়ে গেছে। নির্বাচন কমিশনের বিধিনিষেধে পোস্টার, দেয়াললিখন ও ব্যানার ব্যবহার বন্ধ থাকায় প্রার্থীরা প্রচারের পথ ঘুরিয়ে নিয়েছেন ডিজিটাল দুনিয়ায়।

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এখন নির্বাচনী প্রচারের প্রধান ভরসা। সিলেট–৬ (বিয়ানীবাজার–গোলাপগঞ্জ) আসনের প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করছেন ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর কার্যকর মাধ্যম হিসেবে।

প্রচলিত পদ্ধতিতে পোস্টার ছাপানো বা দেয়াল রং করার খরচ কমিয়ে এখন সেই অর্থ ব্যয় হচ্ছে অনলাইন বিজ্ঞাপন, ভিডিও কনটেন্ট, গ্রাফিক ডিজাইন, পেজ পরিচালনা ও ডেটা বিশ্লেষণে। প্রার্থীদের ঘিরে গড়ে উঠছে আলাদা ডিজিটাল টিম, যারা অনলাইনে প্রচারণার পুরো কার্যক্রম সামলাচ্ছে।

তবে ডিজিটাল প্রচারের এই দ্রুত বিস্তার নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা আনলেও এর ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্নও উঠছে।

এই আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ডিজিটাল প্রচারে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় বিএনপির প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরী ও জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী হাফিজ ফখরুল ইসলামও অনলাইন প্রচারে পিছিয়ে নেই।

বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরী মোবাইল ফোনে নিজের কণ্ঠে ভয়েস বার্তা রেকর্ড করে ভোটারদের কাছে ভোট চাইছেন। গত কয়েক দিনে প্রায় দেড় লাখ ভোটারের কাছে এ বার্তা পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।

বিয়ানীবাজার আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান মনে করেন, ডিজিটাল প্রচারণা এখন সময়ের দাবি। তবে এর অপব্যবহারের ঝুঁকি থাকায় নির্বাচন কমিশনের অধীনে মনিটরিংয়ের জন্য আলাদা ইউনিট গঠন প্রয়োজন।

প্রার্থীদের নিজস্ব পেজ ছাড়াও বিভিন্ন নামহীন ও ছদ্মনামের পেজ, প্রোফাইল ও গ্রুপ থেকেও নির্বাচনী প্রচার ও অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের নিয়ম বিধিমালায় নির্ধারিত আছে এবং তা মানা হচ্ছে কি না, সে বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুর রহীমের মতে, অনলাইন প্রচারের সুবিধা যেমন বেশি, তেমনি ভুয়া তথ্য ছড়ানো ও অপ্রকাশিত ব্যয়ের ঝুঁকিও রয়েছে। সঠিক নিয়ন্ত্রণ ও সচেতনতার মাধ্যমে ডিজিটাল প্রচারকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানোর ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন