সরাসরি রেডিও সম্প্রচার সরাসরি ভিডিও সম্প্রচার
০৫:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জামায়াত আমীরের বক্তব্যে শাবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের প্রতিবাদ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময়ঃ ০২:২৯:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৪৭ বার পড়া হয়েছে।

সম্প্রতি চট্টগ্রামে প্রদত্ত এক জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণার ইতিহাস নিয়ে যে বক্তব্য প্রদান করেছেন, তা জাতির মুক্তিযুদ্ধের প্রতিষ্ঠিত ও দলিলভিত্তিক ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, বিভ্রান্তিকর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রতিবাদ জানান শাবিপ্রবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের অধ্যাপক ড. মো. আশরাফ উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. শাহ মো. আতিকুল হক।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সম্প্রতি চট্টগ্রামে জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমীর তাঁর বক্তব্যে দাবি করেছেন যে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রথম ঘোষণা নাকি “উই রিভোল্ট’’ উচ্চারণের মাধ্যমে এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম দিয়েছেন। এই বক্তব্য ঐতিহাসিক সত্যের চরম বিকৃতি এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী এক নতুন বয়ান প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা।’

নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে সংঘটিত মহান সশস্ত্র বিদ্রোহ ও স্বাধীনতার আহ্বানের ধারাবাহিক রাজনৈতিক ও সামরিক বাস্তবতার ফল। ঐতিহাসিক দলিল, প্রত্যক্ষদর্শী মুক্তিযোদ্ধা, গবেষক ও আন্তর্জাতিক লেখকদের নির্ভরযোগ্য বর্ণনা অনুযায়ী, মেজর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম থেকে রেডিওর মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান করেন। এই ঘোষণাই মুক্তিযুদ্ধরত জাতিকে সুসংগঠিত ও উজ্জীবিত করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার, অস্থায়ী সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, দেশি-বিদেশি গবেষক এবং এমনকি মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের লেখা বহু গ্রন্থে এই বাস্তবতা সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ আছে। ইতিহাসকে অস্বীকার করে, খণ্ডিত বক্তব্য ও অস্পষ্ট শব্দচয়নের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে নতুন তত্ত্ব হাজির করা মানে জাতির আত্মত্যাগকে অবমূল্যায়ন করা। স্বাধীনতার ইতিহাস কোনো রাজনৈতিক সুবিধার হাতিয়ার হতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করা মানে শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা।

জামায়াত আমীরের এমন বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিও জানান তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন