সরাসরি রেডিও সম্প্রচার সরাসরি ভিডিও সম্প্রচার
০৬:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজনৈতিক জোটের বাইরে থেকেও সিলেট-৬ এ ভোটের মাঠে নতুন চমক, স্বতন্ত্র প্রার্থীর দিকেই নজর

স্টাফ রির্পোটার
  • আপডেট সময়ঃ ০৮:১৫:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১০৩ বার পড়া হয়েছে।

সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার–গোলাপগঞ্জ) আসনে বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের হাইভোল্টেজ প্রার্থীদের চাপে ফেলেছেন হেলিকপ্টার প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাফেজ মাওলানা ফখরুল ইসলাম। তরুণ এই জমিয়ত নেতা প্রতিদিন ভোর থেকেই কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় নামছেন। এরই মধ্যে এলাকায় তাঁর পক্ষে সাধারণ মানুষের অবস্থান দৃশ্যমানভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ‘ঘরের ছেলে’ এমপি হলে এলাকার উন্নয়নে সরাসরি লাভ হবে—এই বিশ্বাস থেকেই তাঁরা ফখরুল ইসলামকে সমর্থন দিচ্ছেন। ক্লিন ইমেজের এই তরুণ প্রার্থী ব্যক্তিগত গুণাবলি ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ভোটারদের আস্থা অর্জন করেছেন। রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে একটি অরাজনৈতিক বোঝাপড়া গড়ে তুলতে পারায় সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। ফলে গত এক সপ্তাহে অন্যান্য হাইভোল্টেজ প্রার্থীদের ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে তাঁর হেলিকপ্টার প্রতীক।

দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রায় এক বছর আগেই বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জের মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন মাওলানা ফখরুল ইসলাম। গত রমজান মাসে দুই উপজেলার ১১টি স্থানে প্রতিদিন একসঙ্গে তিন হাজার প্যাকেট ইফতার বিতরণ এবং দরিদ্র পরিবারের মধ্যে পাঁচ টাকার বিনিময়ে এক হাজার টাকার খাদ্যসামগ্রী বিতরণের উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলে।

এ ছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার প্রায় ছয় মাস আগে থেকেই দুই উপজেলার প্রান্তিক এলাকার প্রায় অর্ধশত কাঁচা সড়কে শত শত ট্রাক ইট, বালু ও সুরকি সরবরাহ করে সংস্কার ও মেরামতের কাজ করেন তিনি।

নির্বাচনী মাঠে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতির কারণে ঘাম ঝরছে পরীক্ষিত দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর—জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী এবং জামায়াতের ঢাকা উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিনের। তাঁদের সঙ্গে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ফখরুল ইসলাম।

এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হলে এটি হবে তৃতীয়বারের মতো কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিজয়। এর আগে ১৯৮৬ ও ২০২১ সালে সৈয়দ মকবুল হোসেন লেচু মিয়া দু’বার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন। সিলেট-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামী এখনো জয়ের মুখ দেখেনি। বিএনপির একমাত্র জয় আসে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে।

গত ২২ জানুয়ারি প্রচারণার শুরুতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় ফখরুল ইসলামকে। তাঁর রাজনৈতিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বিএনপির সঙ্গে জোটভুক্ত হওয়ায় তিনি দলীয় মনোনয়ন পাননি। পরে সমর্থকদের চাপে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করলে প্রাথমিক যাচাইয়ে তাঁর প্রার্থিতা বাতিল হয়, যদিও পরবর্তীতে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয়ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী মাওলানা ফখরুল ইসলাম জানান, নির্বাচিত হলে উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারি অনুদানের সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে প্রতিটি প্রকল্প এলাকায় ডিজিটাল বোর্ড স্থাপন করে জনগণকে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। তিনি আরও বলেন, এমপি হিসেবে প্রাপ্ত ভাতা দুই উপজেলার গরিব মানুষের মধ্যে বণ্টন করবেন এবং সরকারি খরচ কমাতে সরকারি পরিবহন ব্যবহার থেকে বিরত থাকবেন। তাঁর ভাষায়, “নিজেকে পরিবর্তন করলে দেশ পরিবর্তন হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন