খতিব থেকে জাতীয় সংসদে—সিলেট-৫ এ নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়
বিয়ানীবাজারের খতিব এখন সিলেট-৫ এর সংসদ সদস্য

- আপডেট সময়ঃ ০৩:৩৩:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ৭৫ বার পড়া হয়েছে।

বিয়ানীবাজার মোকাম মসজিদের খতিব ও জকিগঞ্জ কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী মুফতী মোহাম্মদ আবুল হাসান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ–কানাইঘাট) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি ৯ হাজার ৫৮১ ভোটের ব্যবধানে জয় লাভ করেন।
পোস্টাল ভোটসহ তার মোট প্রাপ্ত ভোট ৭৯ হাজার ৩৫৫। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোট মনোনীত জমিয়তের প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক খেজুর গাছ প্রতীকে ৬৯ হাজার ৭৭৪ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুনুর রশীদ চাকসু মামুন ফুটবল প্রতীকে পান ৫৭ হাজার ২৫১ ভোট। মুসলিম লীগের প্রার্থী মোঃ বিলাল উদ্দিন হারিকেন প্রতীকে ৩৭২ ভোট লাভ করেন। ফলে এ আসনে মূলত ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা লক্ষ্য করা যায়।
সিলেট-৫ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ২৮ হাজার ৯৮৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২১ হাজার ৩৫৭ এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৭ হাজার ৩৯১ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ১৫৮টি—জকিগঞ্জে ৭৭টি এবং কানাইঘাটে ৮১টি।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মুফতী আবুল হাসান তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “সিলেট-৫ আসনের সর্বস্তরের নাগরিক, দলীয় ও জোটের নেতা-কর্মী, প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক এবং নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী সকলের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে যে আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করেছেন, তা অটুট রাখতে আমি বদ্ধপরিকর।”
তিনি নির্বাচন কমিশনকেও ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্বল্প সময়ের প্রস্তুতি নিয়েও জনতার অকুণ্ঠ সমর্থন ও ভালোবাসা পেয়েছি, যা সত্যিই অমূল্য। আগামী পাঁচ বছর আমি সিলেট-৫ আসনের উন্নয়নে নিজেকে নিবেদিত রাখব।”
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক ও মামুনুর রশীদ মামুনের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, “আমরা তিনজনই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলাম। আমাদের সবার লক্ষ্য ছিল অবহেলিত এই জনপদের উন্নয়ন। ভবিষ্যতের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তাদের সহযোগিতা পাব বলে আমি আশা করি।”
দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি আহ্বান জানান, “বিজয়ের আনন্দে আত্মহারা না হয়ে জনগণের দেওয়া দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের প্রস্তুতি নিতে হবে। বিভেদ নয়, ঐক্যের ভিত্তিতে আমরা সিলেট-৫-কে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে চাই।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ ফলাফল সিলেট-৫ আসনে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।



















