ঈদের ছুটিতে সিলেটে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়

- আপডেট সময়ঃ ০৬:০৫:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬
- / ৩০ বার পড়া হয়েছে।

সিলেটের অপরূপ প্রকৃতি যেন পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। ঈদুল ফিতরের লম্বা ছুটিতে পাহাড়, নদী আর চা-বাগানের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হতে হাজারো মানুষ ছুটে এসেছেন এখানে।এবারের ঈদে লম্বা ছুটি পাওয়ায় জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা জাফলং, রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট, ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর, বিছনাকান্দি, লালাখাল, মালনিছড়া চা বাগান, লাক্কাতুরা চা বাগান, শাহজালাল মাজার, শাহপরান মাজার, আলী আমজাদের ঘড়ি, কিন ব্রিজ, খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, হামহাম জলপ্রপাত, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, শ্রীমঙ্গল, বড়লেখা চা-বাগান, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান, রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্য, চুনারুঘাটের পাথারিয়া পাহাড়, টাঙ্গুয়ার হাওর, জাদুকাটা নদী, বাইক্কাটিলা, নীলাদ্রি লেক (শহীদ সিরাজ লেক) দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সিলেটে ছুটে এসেছেন পর্যটকরা।রবিবার (২২ মার্চ) দুপুরে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং, বিছনাকান্দি ও রাতারগুল সোয়াম্প ফরেষ্ট সহ বিভিন্ন চা-বাগানে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। স্বচ্ছজল রাশি ও পাথরের ঢেউ খেলানো পর্যটকদের বিমোহিত করেছে।
কুমিল্লা থেকে আসা পর্যটক ফাহিমা আক্তার বলেন, ‘এমন সৌন্দর্য শুধু ছবিতেই দেখেছি। বাস্তবে এসে অভিভূত হয়ে গেছি। এবার লম্বা ছুটি পেয়েছি। তীব্র গরমের মধ্যেও বিভিন্ন স্পট ঘুরেছি। বিশেষ করে জাফলং শীতল পানিতে গোসল করে খুব ভালো লেগেছে। সকল পর্যটন কেন্দ্রগুলো ঘুরব।’শাকিল নামে একজন বলেন, ‘চা বাগানে আসলে আমার খুব ভালা লাগে। তীব্র গরমের মধ্যেই সকল পর্যটন কেন্দ্রের চেয়ে চা বাগান এসে খুব ভালো লেগেছে। ঈদের ছুটি পেয়ে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে চা বাগানে দীর্ঘ সময় আড্ডা দিলাম। সিলেটের চা বাগানগুলো খুব সুন্দর। সময় পেলে চা বাগানে ঘরেতে আসি।সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকা গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট, কোম্পানিগঞ্জ, জৈন্তাপুরে ঈদের ছুটিতে পর্যটকের ঢল নেমেছে। জাফলং, বিছনাকান্দি, রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট, জাফলং চা-বাগান, লালাখাল, লোভাছড়া, সাদা পাথরসহ সব জায়গায় উপচেপড়া ভিড়।
রংপুর থেকে আসা সোহেল আহমদ বলেন, ‘সাদাপাথরের ধলাই নদীর শীতল জল স্পর্শ করে মনটা চাঙ্গা হয়ে গেছে। রাস্তাঘাট ভালো থাকায় স্বল্প সময়ে আসতে পেরেছি। কিন্তু নৌকা ভাড়া একটু বেশি মনে হয়েছে।’
ঢাকা থেকে জাফলংয়ে ঘুরতে আসা সোমা বলেন, ‘আমাদের সব সময় ব্যস্ততায় দিন কাটে। ঈদের লম্বা ছুটি পেয়ে পরিবারের সবাইকে নিয়ে প্রকৃতির কাছে একটু ঘুরতে আসছি। গরম বেশি লাগলেও পানিতে ভিজে খুব ভালো লেগেছে।’
জাফলংয়ে ঘুরতে আসা পার্থ বলেন, ‘আমার বন্ধুদের সঙ্গে দীর্ঘ প্ল্যান করে ঈদের ছুটি পেয়ে ঘুরতে এসেছি। আসার পর তীব্র গরমেও আমরা খুব আনন্দ করেছি। পর্যটকদের জন্য ভালো কোনো ওয়াশ রুমের ব্যবস্থা নেই। তাই প্রশাসনকে অনুরোধ করব পর্যটকদের জন্য সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা রাখার। গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান বলেন এবার পর্যটকদের ঢল নেমেছে। আমরা পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছি।’ গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার রতন কুমার অধিকারী বলেন, ‘এবারের ঈদে গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসন, গোয়াইনঘাট থানাপুলিশ ও ট্যুরিশ পুলিশ একযোগে কাজ করছে।’



















