চরে গভীর গর্ত করে বালু উত্তোলন: হুমকির মুখে কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী এলাকা
বিয়ানীবাজারে কুশিয়ারার চর থেকে মধ্যরাতে বালু লুট
- আপডেট সময়ঃ ১১:৫২:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
- / ৬০ বার পড়া হয়েছে।
বিয়ানীবাজারে কুশিয়ারার চর থেকে রাতের আঁধারে বালু লুট। প্রশাসনের নীরবতায় বেপরোয়া প্রভাবশালী চক্র। প্রতিদিন অর্ধশতাধিক ট্রাকে যাচ্ছে অবৈধ বালু।


সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার আঙ্গারজুর এলাকার কুশিয়ারা নদীর চর থেকে রাতের আঁধারে বালু লুট করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তির সঙ্গে যোগসাজশ করে গত মধ্য রমজান থেকে অর্ধশতাধিক ট্রাক দিয়ে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চললেও রহস্যজনক কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নীরব রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সঙ্গে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ট্রাক চালক ও মালিক জড়িত। মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত ট্রাক ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হলেও ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। সংশ্লিষ্ট চরটি সরকারি ইজারা তালিকায় না থাকায় সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, চরটি ইজারা দেওয়ার বিষয়ে পূর্বে আবেদন করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে হাইড্রোগ্রাফিক জরিপের নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে এখনো মাঠ পর্যায়ে সেই কার্যক্রম পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, মধ্য রমজান থেকে প্রতিদিন গভীর রাত ও ভোরে ট্রাকের মাধ্যমে বালু সরানো হচ্ছে। রমজান মাসে ভোরের দিকে এবং ঈদের পর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত এ কার্যক্রম আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী চরটিতে কয়েক বছর ধরে নতুন ভূমি জেগে উঠেছে। এখনও সরকারি তালিকাভুক্ত না হওয়ায় সেটি ইজারা দেওয়া হয়নি। এই সুযোগে চক্রটি চরের বিভিন্ন স্থানে গভীর গর্ত করে বালু উত্তোলন করছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, নদীর তীরবর্তী একটি অংশ থেকে স্থানীয়ভাবে মাটি নেওয়া হয়েছে, তবে বালু লুটের বিষয়ে তিনি অবগত নন। অপরদিকে, কয়েকজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
থানা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। ইতোমধ্যে প্রাথমিকভাবে পাহারার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং শিগগিরই অভিযান চালিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
















