ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সিলেটে চাঞ্চল্য: চিকিৎসক মায়ের ছেলের রহস্যময় মৃত্যু ঘিরে নানা গুঞ্জন

    নিজস্ব প্রতিবেদক,
  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 11, 2026 ইং 49 বার পঠিত
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. রুলী বিনতে রহিম। ছবির ক্যাপশন: সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. রুলী বিনতে রহিম।
ad728

সিলেটে চিকিৎসক ডা. রুলী বিনতে রহিমের একমাত্র ছেলে মাহাদি আনজুমের (১৫) মৃত্যু নিয়ে জনমনে গভীর রহস্য ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর মিয়াজিলচিশত এলাকার একটি বাসার চতুর্থ তলা থেকে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকে ডা. রুলীর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনসহ অতীতের নানা ঘটনা নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।

মাহাদি জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মৃত্যুর পর ঘটনাস্থল থেকে ইংরেজিতে হাতে লেখা একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়, যেখানে লেখা ছিল, ‘আমার লাশ পুলিশ যেন না ধরে, পুলিশি তদন্ত ও ময়নাতদন্ত যেন না হয়।’ এই অদ্ভুত অনুরোধ স্থানীয়দের মাঝে সন্দেহের উদ্রেক করেছে। যদিও সিলেট এয়ারপোর্ট থানার ওসি শহিদুর রহমান জানিয়েছেন, সব আইনি প্রক্রিয়া মেনে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে এবং বুধবার বিকেলে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

মায়ের দাবি, বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের রূঢ় আচরণের কারণে মাহাদি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল এবং এর জেরেই সে আত্মহত্যা করে। তবে এই অভিযোগের বিপরীতে ডা. রুলীর পরিবারের অতীত ইতিহাস সামনে এসেছে। স্থানীয় ও একাধিক সূত্র দাবি করছে, কয়েক বছর আগে মাহাদির বাবা মিসবাহ উদ্দিনের মৃত্যুও ছিল রহস্যে ঘেরা। সে সময় তার স্বজনরা মিসবাহের মৃত্যুর পেছনে ডা. রুলীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছিলেন। মাহাদির মৃত্যুর পর এলাকাবাসীর অনেকে সেই পুরোনো ঘটনা এবং বর্তমান পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, বাবা-মায়ের সম্পর্কের জটিলতা, মায়ের দ্বিতীয় বিয়ে এবং পারিবারিক নিঃসঙ্গতা মাহাদিকে গভীর ডিপ্রেশনে ঠেলে দিয়েছিল। স্বজনদের মতে, সে কারো সঙ্গে তেমন মিশত না এবং বেশিরভাগ সময় পড়ার টেবিলেই থাকত। মায়ের সঙ্গেও তার দূরত্ব ছিল বলে অভিযোগ শোনা যাচ্ছে।

ডা. রুলী বিনতে রহিমের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিলেট মহানগর কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে পরিচিত। তবে এ বিষয়ে দলের শীর্ষ নেতাদের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান আফজাল দাবি করেছেন, ডা. রুলী ‘ইনঅ্যাক্টিভ’ থাকায় ২-৩ মাস আগেই তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক বুস্তান চৌধুরীর দাবি, ডা. রুলী এখনো কমিটিতে বহাল আছেন।

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর থেকেই ডা. রুলী বিনতে রহিমের অবস্থান রহস্যময়। বুধবার সারাদিন একাধিকবার তাকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এছাড়া তার ফেসবুক আইডিটিও এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। একজন দায়িত্বশীল চিকিৎসক ও রাজনৈতিক নেত্রীর এমন নীরবতা এই মৃত্যুকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।

​এ ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচনে প্রশাসন কি কোনো বিশেষ পদক্ষেপ নেবে—এখন সেটাই দেখার বিষয়।


নিউজটি আপডেট করেছেনঃ নিজস্ব প্রতিবেদক,

কমেন্ট বক্স