ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ব্রিটিশ রাজার জন্মদিনের সম্মাননা তালিকায় স্থান পেলেন বাংলাদেশি পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ উদ্দিন

    Sylhet 21
  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 13, 2026 ইং 160 বার পঠিত
ব্রিটিশ রাজার বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত মেট পুলিশের সার্জেন্ট মোহাম্মদ উদ্দিন (মুনিম) ছবির ক্যাপশন: ব্রিটিশ রাজার বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত মেট পুলিশের সার্জেন্ট মোহাম্মদ উদ্দিন (মুনিম)
ad728

যুক্তরাজ্যের ২০২৬ সালের ‘রাজার জন্মদিনের সম্মাননা তালিকায়’ (কিংস বার্থডে অনার্স ২০২৬) গৌরবোজ্জ্বল স্থান করে নিয়েছেন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ উদ্দিন (মুনিম)। লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ (মেট)-এর ১০ জন কর্মরত ও সাবেক কর্মকর্তা এবং কর্মীকে এবার এই তালিকায় স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে মোহাম্মদ উদ্দিন অন্যতম। কমিউনিটি পুলিশিংয়ে (এলাকাভিত্তিক পুলিশিং) অসামান্য অবদান এবং অপরাধ দমনে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য তাকে এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।

মোহাম্মদ উদ্দিনের এই আন্তর্জাতিক সাফল্যে আনন্দের বন্যা বইছে তার পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের সিলেটে। তিনি সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার কুড়ার বাজার ইউনিয়নের উত্তর আকাখাজানা গ্রামের সন্তান। তার পিতা প্রয়াত অর্জমন্ড আলী ছিলেন লন্ডন প্রবাসী। প্রবাসে থাকলেও দেশের মাটির সঙ্গে তাদের যোগাযোগ সব সময়ই নিবিড় ছিল। মোহাম্মদ উদ্দিনের এই বৈশ্বিক স্বীকৃতি দেশের এবং সিলেটের মানুষের মুখ উজ্জ্বল করেছে।

মোহাম্মদ উদ্দিনকে একজন অসাধারণ পুলিশিং লিডার (পুলিশিং নেতা) হিসেবে গণ্য করা হয়। এলাকাভিত্তিক পুলিশিং (নেইবারহুড পুলিশিং) এবং স্থানীয় কমিউনিটির (জনগোষ্ঠীর) সঙ্গে সুদৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি অটুট নিষ্ঠা প্রদর্শন করেছেন। লন্ডনের হোমারটন টিমের সঙ্গে দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি অপরাধ মোকাবিলায় যেমন শক্তিশালী নেতৃত্ব দিয়েছেন, ঠিক তেমনই জয় করেছেন স্থানীয় জনগণের গভীর আস্থা। তার কাজের মূল ভিত্তি ছিল— ন্যায়পরায়ণতা ও অন্তর্ভুক্তি (সমাজের সব স্তরের মানুষকে সমান চোখে দেখা), জনসেবা (সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া) এবং মেট্রোপলিটন পুলিশের মূল্যবোধ (সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে বাহিনীর সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখা)।

অপরাধীদের বিরুদ্ধে মোহাম্মদ উদ্দিনের অবস্থান ছিল আপসহীন। তিনি সংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধে বেশ কিছু লক্ষ্যভিত্তিক (টার্গেটেড) সফল অভিযান পরিচালনা করেন। বিশেষ করে ছিনতাই ও পথচারীদের হেনস্তা রোধ, যানবাহন চুরি চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং দোকান চুরির মতো অপরাধ নির্মূল। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করা এবং ভুক্তভোগীদের চুরি যাওয়া সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত উদ্ভাবনী পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক ও সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে তিনি অপরাধের মূল উৎপাটনে সফল হন।

তার এই সক্রিয় পুলিশিং উদ্যোগ এবং যেকোনো সমস্যা সমাধানের প্রতি অবিচল মনোযোগের কারণে হোমারটন ও তার আশপাশের এলাকায় অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। বাসিন্দাদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় কমিউনিটিগুলো (জনগোষ্ঠীগুলো) এখন অনেক বেশি সুরক্ষিত বোধ করছে। সাধারণ মানুষের মনে এই বিশ্বাস দৃঢ় হয়েছে যে, তাদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ বাহিনীতে মোহাম্মদ উদ্দিনের মতো একজন কার্যকর ও দূরদর্শী কর্মকর্তা নিয়োজিত আছেন। ব্রিটিশ রাজার এই সম্মাননা মোহাম্মদ উদ্দিনের দীর্ঘদিনের অক্লান্ত পরিশ্রম ও মেধার এক অনন্য স্বীকৃতি, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।


নিউজটি আপডেট করেছেনঃ Sylhet 21

কমেন্ট বক্স