বিয়ানীবাজারে ‌’এসিল্যান্ডদের মন বসেনা’

    স্টাফ রিপোর্টার:
  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 21, 2026 ইং 42 বার পঠিত
ছবির ক্যাপশন:
ad728

মাসের পর মাস শূন্য থাকে বিয়ানীবাজার উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) অর্থাৎ এসিল্যান্ডের পদ। এখানে এসিল্যান্ডরা যোগদান করেই বদলী হয়ে যান। কেউ চলে যান প্রশিক্ষণে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন উপজেলার সেবাপ্রত্যাশীরা। মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় ভূমি সংক্রান্ত কার্যক্রম নামজারি (মিউটেশন), ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা), খাসজমির বন্দোবস্ত, সরকারি জমি উদ্ধার, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, জমির শ্রেণি পরিবর্তন রেকর্ড সংশোধন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, হাটবাজার মনিটরিংসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যক্রম।

প্রশাসন ক্যাডারের মাঠপর্যায়ের এই গুরুত্বপূর্ণ পদটি নিয়ে বিভাগীয় কিংবা জেলা প্রশাসনের কোন গরজ নেই। অনুসন্ধানে জানা যায়, বিয়ানীবাজারের ভূমি প্রশাসন এখন বহুমাত্রিক সংকটের মধ্যে দায়িত্ব পালন করছে। নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার চাপের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব, দীর্ঘদিনের জমি বিরোধ, জাল দলিল, একই জমির একাধিক রেকর্ড, আদালতে বিচারাধীন মামলা এবং প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা ভূমি অফিসের কাজকে দিন দিন আরও জটিল করে তুলছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এসিল্যান্ড না থাকায় মাসের পর মাস নামজারি আবেদন ঝুলে থাকছে। ভূমি সংক্রান্ত কাজ করতে এসে অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। মাঠ প্রশাসনের একাধিক দায়িত্ব একসাথে পালন করতে গিয়ে স্থানীয় ইউএনওকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিয়ানীবাজারে সর্বশেষ এসিল্যান্ড হিসেবে যোগদান করা আব্দুর রহমান ট্রেনিংয়ে আছেন টানা কয়েকমাস থেকে। তিনি যোগদানের পর অফিস করেছেন হাতেগোনা কয়েকদিন।

সূত্র জানায়, গত একযুগে উপজেলায় এসিল্যান্ড এসেছেন অন্তত: ১৫জন। কেউই এখানে বেশীদিন থাকেননি। যোগদানের অল্পদিনের মধ্যে বদলী হয়ে তারা অন্যত্র চলে যান। ফলে বছরের বেশীরভাগ সময় শূণ্য পড়ে থাকে এ দপ্তর। একজন এসিল্যান্ডকে একই সঙ্গে রাজস্ব আদায়, আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত দায়িত্ব, নির্বাচন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচির কাজও সামলাতে হয়।

শ্রীধরা গ্রামের শফিক মিয়া জানান, এসিল্যান্ড না থাকায় চরম দুর্ভোগে আছি। প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দাগণ আরও বেশি দুর্ভোগে আছেন। ভূমি সংক্রান্ত কাজে এসে ফিরে যাচ্ছে চরম ক্ষোভ নিয়ে।

সুপাতলার বাসিন্দা কয়েস আহমদ জানান, এসিল্যান্ড না থাকায় নামজারিসহ ভূমি সংক্রান্ত অন্যান্য কাজে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছি। দলিল লেখক মর্তুজা আহমদ চৌধুরী জানান, এসিল্যান্ড না থাকায় নামজারী করা যাচ্ছে না। এতে করে জমি বিক্রি কমে গেছে। আগে সপ্তাহে দলিল হতো ৭০-৮০টি, এখন হচ্ছে ৪০-৫০টি। অনেকেই ব্যাংক থেকে লোন নিতে পারছে না। এতে করে সরকারের রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে অপরদিকে জনগণ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

 

বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে হাবিবা মজুমদার জানান, এসিল্যান্ড না থাকা ও জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, এসিল্যান্ন্ড ট্রেনিংয়ে রয়েছেন, যার ফলে সংকট রয়েছে। ট্রেনিং শেষ করে যোগদান করলে এই সমস্যার সমাধান হবে।