বিয়ানীবাজারে উপজেলা সদরেই মডেল মসজিদ নির্মাণের দাবি ইউএনওকে নাগরিক উদ্যোগের স্মারকলিপি

    স্টাফ রিপোর্টার:
  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 10, 2026 ইং 179 বার পঠিত
ছবির ক্যাপশন:
ad728


বিয়ানীবাজার উপজেলা সদরের জন্য বরাদ্দকৃত মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উপজেলা সদরেই নির্মাণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ‘বিয়ানীবাজার উপজেলা মডেল মসজিদ বাস্তবায়ন নাগরিক উদ্যোগ’।

সোমবার (১০ আগস্ট) রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নাগরিক উদ্যোগের নেতৃবৃন্দ স্মারকলিপিটি হস্তান্তর করেন। এ সময় তারা উপজেলা সদরেই প্রকল্প বাস্তবায়নের যৌক্তিকতা তুলে ধরে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

স্মারকলিপি গ্রহণ করে ইউএনও উম্মে হাবিবা বলেন, মডেল মসজিদ একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্প। উপজেলা সদরেই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দাবিটি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে। সরকারি নীতিমালা, প্রকল্পের শর্ত, জমির প্রাপ্যতা ও জনস্বার্থ—সবকিছু বিবেচনা করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, নাগরিকদের দেওয়া স্মারকলিপিটি যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। উপজেলা সদর এলাকায় উপযুক্ত স্থান পাওয়া যায় কি না, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে তা যাচাই করা হবে। প্রচলিত বিধিবিধান ও সরকারি সিদ্ধান্তের আলোকে সর্বোচ্চ জনস্বার্থ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সারাদেশে মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রকল্প। এর মাধ্যমে ধর্মীয় শিক্ষা, ইসলামিক গবেষণা, হিফজ কার্যক্রম, ইমাম ও হজ প্রশিক্ষণ, ইসলামিক লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সেবার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

বিয়ানীবাজার উপজেলার জন্য বরাদ্দকৃত প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে জমি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বাস্তবায়ন না হওয়ায় স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পটি উপজেলা সদর থেকে অন্যত্র স্থানান্তরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা ও প্রশ্ন ওঠায় সদরেই প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে।

স্মারকলিপিতে উপজেলা পরিষদ চত্বরকে অগ্রাধিকার দিয়ে বর্তমান পুরাতন মসজিদ ও আশপাশের উপযুক্ত সরকারি জায়গা সমন্বয় করে মডেল মসজিদ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের অনুরোধ জানানো হয়। পাশাপাশি উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, গণপূর্ত অধিদপ্তর, সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার অধীন সম্ভাব্য জমি যাচাই, আন্তঃদপ্তর সমন্বয় এবং প্রয়োজনে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া উপজেলা সদর থেকে প্রকল্পটি অন্যত্র স্থানান্তরের কোনো প্রস্তাব বা সিদ্ধান্ত হয়ে থাকলে তার নীতিগত, প্রশাসনিক ও আইনগত ভিত্তি স্পষ্ট করার দাবি জানানো হয়। সদর এলাকায় নির্মাণের সম্ভাব্য সব পথ যাচাই ও নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত না নেওয়ারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নাগরিক উদ্যোগের নেতৃবৃন্দ বলেন, “এটি কোনো ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল কিংবা কোনো ইউনিয়ন বা এলাকার বিরুদ্ধে অবস্থান নয়। বিয়ানীবাজারের বৃহত্তর জনস্বার্থ, সরকারি নীতিমালা, সহজ যোগাযোগ এবং সর্বাধিক মানুষের নাগরিক সুবিধা বিবেচনায় উপজেলা সদরেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা আমাদের দাবি।”

তারা বলেন, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা এলাকা বিয়ানীবাজারের প্রধান প্রশাসনিক ও নাগরিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ সরকারি সেবা নিতে এখানে আসেন। ফলে উপজেলা সদর বা এর নিকটবর্তী কেন্দ্রীয় স্থানে মডেল মসজিদ নির্মাণ করা হলে প্রকল্পটির ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সুবিধা সর্বাধিক মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

স্মারকলিপি প্রদানকালে ‘বিয়ানীবাজার উপজেলা মডেল মসজিদ বাস্তবায়ন নাগরিক উদ্যোগ’-এর আহ্বায়ক মো. আতাউর রহমান (অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক), যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল হোসেন (সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য), প্রাক্তন শিক্ষক ফখর উদ্দিন, সদস্যসচিব জমির হোসাইন, শাহেদ আহমদ (সম্পাদক, পঞ্চখণ্ড গোলাবিয়া পাবলিক লাইব্রেরি), ছয়ফুল আলম ঝুনু (সাবেক প্যানেল মেয়র), মো. আলাল উদ্দিন (সুপাতলা), জাকির হোসাইন (ফতেহপুর), মো. জিলা মিয়া (খাসা বিলবাড়ী), দেলওয়ার হোসেন (শ্রীধরা), রায়হান আলম সাজু (পণ্ডিতপাড়া)সহ কমিটির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ৯ আগস্ট পঞ্চখণ্ড গোলাবিয়া পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত নাগরিক মতবিনিময় সভায় ‘বিয়ানীবাজার উপজেলা মডেল মসজিদ বাস্তবায়ন নাগরিক উদ্যোগ’ গঠন করা হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।