বিয়ানীবাজারে মন্দিরের মাইকের শব্দে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী, শান্তিপূর্ণ পরিবেশের দাবি

    স্টাফ রিপোর্টার:
  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 21, 2026 ইং 10 বার পঠিত
ছবির ক্যাপশন:
ad728

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দ ও বিভিন্ন কার্যক্রমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন বিয়ানীবাজারের একটি এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা। মন্দিরকেন্দ্রিক বিভিন্ন কার্যক্রম ও মাইক ব্যবহারের কারণে দীর্ঘদিন ধরে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসীর একাংশ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন কার্যক্রম ও উচ্চ শব্দের কারণে ঘুম, পড়াশোনা ও দৈনন্দিন কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার অসুবিধার কথা জানানো হলেও কার্যকর সমাধান হয়নি বলে দাবি তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা রায়হান আলম সাজু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিয়ানীবাজারের হিন্দু ভাইদের কাছে আমাদের অনুরোধ—দয়া করে আমাদের একটু শান্তিতে থাকার ব্যবস্থা করে দিন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কীভাবে আমরা বেঁচে আছি, একমাত্র আল্লাহই জানেন।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা কোনো ধর্মীয় বিরোধ বা সংঘাতে যেতে চাই না। কিন্তু বিষয়টি সময়মতো সমাধান না হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হতে পারে। আমরা চাই না কোনোভাবেই এটি ধর্মীয় সহিংসতা বা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার দিকে গড়াক।”

এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি ও পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য সজীব ভট্টাচার্য্য বলেন, “আমরা বিষয়টি নিয়ে মন্দিরের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব। নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে গিয়ে যাতে অন্য ধর্মের মানুষের কষ্ট না হয়, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে।”

স্থানীয়দের ভাষ্য, অতীতে মন্দিরে দায়িত্বে থাকা পুরোহিত এলাকার বাসিন্দাদের সমস্যাগুলো বুঝতেন এবং তাদের সঙ্গে সমন্বয়ের চেষ্টা করতেন। তবে বর্তমানে মন্দির পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের যোগাযোগ ও সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

বিয়ানীবাজার পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক বিবেকানন্দ দাস বলেন, “আমরা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের পক্ষ থেকে গিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করব। অন্য ধর্মের আজানের সময় মাইক ও সাউন্ড বন্ধ রাখার বিষয়েও আমরা কথা বলব। আমরা সবাই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চাই।”

এলাকাবাসীর মতে, স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের মন্দির পরিচালনা কমিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত করে নিয়মিত সমন্বয়ের ব্যবস্থা করা হলে মন্দিরের ধর্মীয় কার্যক্রম ও স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব।

এদিকে বিয়ানীবাজার পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সদস্য সচিব সুশান্ত পাল বলেন, “আমি আজ গিয়ে এ বিষয়ে কথা বলব। অতীতেও তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, যাতে আজান, নামাজ ও স্কুলের ক্লাস চলাকালীন সময়ে সাউন্ড ব্যবহার না করা হয়।”

এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, “বিষয়টি নিয়ে মন্দির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। বর্তমানে পরিবেশ ভালো আছে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, তারা কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে চান না। তাদের দাবি, ধর্মীয় কার্যক্রম পালনের পাশাপাশি আশপাশের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও শান্তিপূর্ণ বসবাসের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হোক।

তাদের মতে, পারস্পরিক আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে শব্দের মাত্রা, সময়সূচি এবং মাইক ব্যবহারের বিষয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা করা সম্ভব। এতে একদিকে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ বজায় থাকবে, অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দারাও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করতে পারবেন।

এলাকাবাসী বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্দির পরিচালনা কমিটির নজরে এনে আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এলাকার শান্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থান বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।