সিলেটে অতিরিক্ত দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি ও মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় অভিযান চালিয়ে তিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ২২ হাজার টাকা জরিমানা করেছে প্রশাসন। রোববার সিলেটের কানাইঘাট ও মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় পৃথক অভিযানে এ জরিমানা আদায় করা হয়।
জানা গেছে, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে অতিরিক্ত দামে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি, মূল্য তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন না করা, ক্রয়-বিক্রয় ভাউচার সংরক্ষণ না করায় তিন প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।রোববার (৪ অক্টোবর) উপজেলার শমশেরনগর বাজারের লামাবাজার, স্টেশন রোড ও বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি ও খুচরা এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়।
অভিযানে লামাবাজারের ওম ট্রেডার্সকে ৩ হাজার টাকা, স্টেশন রোডের চৌধুরী ট্রেডার্সকে ২ হাজার টাকা এবং সায়েম হার্ডওয়্যারকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়েছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল-আমিন অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জনসচেতনতা তৈরিতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার বিক্রি না করা এবং অবৈধভাবে মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি না করার জন্য ব্যবসায়ীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, সিলেটের কানাইঘাটে সরকার নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করতে অভিযান শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করায় এক ব্যবসায়ীকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সড়কের বাজারে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির দোকানগুলো পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট সুমাইয়া ফেরদৌস।
অভিযানের সময় একটি দোকানে সরকার নির্ধারিত মূল্যের তালিকা প্রদর্শন না করার বিষয়টি ধরা পড়ে। এ কারণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ওই ব্যবসায়ীকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নিয়ে যাতে কোনো ব্যবসায়ী অনিয়ম করতে না পারেন, সে জন্য নিয়মিত নজরদারি করা হবে। উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ও যেসব স্থানে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হয়, সেখানে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, প্রত্যেক এলপিজি ব্যবসায়ীকে দোকানে সরকার নির্ধারিত মূল্যতালিকা প্রদর্শন করতে হবে। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি, অবৈধভাবে মজুত কিংবা মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে কোনো ব্যবসায়ী এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি করলে বিষয়টি প্রশাসনকে জানানোর জন্যও ক্রেতাদের প্রতি আহ্বান জানান ইউএনও।