জগন্নাথপুরে ৫০ বছরের পুরোনো কবরে ২০ বছর ধরে জীবিত মানুষের বসতি!

    ​জগন্নাথপুর প্রতিনিধি
  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 5, 2026 ইং 31 বার পঠিত
জগন্নাথপুরের কাঠ বাজার কবরস্থানে ৫০ বছরের পুরোনো কবরে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে বসবাস করছেন ৬০ বছর বয়সী এক গৃহহীন ব্যক্তি। ছবির ক্যাপশন: জগন্নাথপুরের কাঠ বাজার কবরস্থানে ৫০ বছরের পুরোনো কবরে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে বসবাস করছেন ৬০ বছর বয়সী এক গৃহহীন ব্যক্তি।
ad728
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র কাঠ বাজার এলাকা। চারপাশ ঘিরে কবরের সারি। সাধারণ মানুষ যেখানে সন্ধ্যার পর কবরের পাশ দিয়ে হেঁটে যেতেও আঁতকে ওঠেন, সেখানে মৃতদের মাঝেই দীর্ঘ ২০ বছর ধরে বাস করছেন এক গৃহহীন ব্যক্তি। শুধু কবরস্থানের চত্বরে নয়, রীতিমতো ৫০ বছরের পুরোনো একটি বাঁধানো কবরের ভেতরেই স্থায়ী নিবাস গড়ে তুলেছেন ৬০ বছর বয়সী এই প্রবীণ।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় নিরাশ্রয় এ মানুষটি পৌর শহরের রাস্তায় রাস্তায় রাত কাটাতেন। অবশেষে আশ্রয় হিসেবে বেছে নেন কাঠ বাজার কবরস্থানের একটি পুরোনো কবরকে। দীর্ঘদিন ধরে অন্ধকারের সঙ্গেই তার সখ্য। তিনি বাইরে বের হওয়ার সময় সতর্ক থাকেন যাতে হঠাৎ দেখে কেউ ভয় না পান।
​বিষয়টি নজরে এলে স্থানীয় বাসিন্দা ব্যারিস্টার মরহুম আব্দুল মতিনের পুত্র মির্জা স্বপন আহমেদ কবরটির ওপর টিনের ছাউনি দিয়ে থাকার কিছুটা উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে দেন, যাতে রোদ-বৃষ্টিতে তাকে কষ্ট পেতে না হয়।

​এ বিষয়ে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মির্জা স্বপন আহমেদ জানান, "তিনি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে আমার পিতা ব্যারিস্টার আব্দুল মতিনের কবরে আছেন। মেঘ-বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা পেতে আমি কবরের ওপর টিনের ছাউনি দিয়ে দিয়েছি। তিনি সর্বক্ষণ এখানেই থাকেন। দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষ তাকে দেখতে আসেন, তবে তিনি সবার হাত থেকে খাবার বা উপহার নেন না। কেবল নিজের ইচ্ছে হলেই নেন।"
​কবরস্থানের ওয়ারিশদের মতে, তিনি একজন সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষ। কবরস্থানের কোনো ক্ষতি তিনি করেন না, তাই তাকে সেখানে থাকতে দেওয়া হয়েছে।

​জীবিত অবস্থায় কবরে বাস করা প্রসঙ্গে ওই ব্যক্তি বলেন, "একদিন তো মরতেই হবে, তখন তো এই কবরই শেষ ঠিকানা। তাই কবরে ঘুমাতে আমার আর ভয় লাগে না। হঠাৎ কোনো রাতে যদি কবরে শুয়েই মৃত্যু হয়, তবে আমার জন্য আর কাউকে কষ্ট করে কবর খুঁড়তে হবে না।"
​বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই যে মৃতদের এই নিস্তব্ধ রাজ্যে একজন জীবিত মানুষ বহু বছর ধরে দিন-রাত কাটিয়ে দিচ্ছেন। রোমাঞ্চ আর এক অদ্ভুত বাস্তবতার সাক্ষী হয়ে ওঠা এই দৃশ্য দেখতে মাঝেমধ্যেই কৌতুহলী মানুষ ভিড় জমান সেখানে।