চ্যাট লোড হচ্ছে...

জুমির — নীরবতার আড়ালে এক অসমাপ্ত সংগ্রামের গল্প

    অতিথি লেখক
  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 20, 2026 ইং 24 বার পঠিত
ছবির ক্যাপশন:
ad728

জুমি এমন একজন মানুষ, যে কখনো খুব বেশি কিছু চায়নি। তার চাওয়াগুলো ছিল ছোট, স্বপ্নগুলো ছিল সাধারণ, আর মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা ইচ্ছেটুকু ছিল খুব সহজ—একটু শান্তিতে বাঁচবে, প্রিয় মানুষগুলোকে নিয়ে ভালো থাকবে, আর জীবনের দিনগুলো কাটবে কিছুটা স্বস্তিতে। সে কখনো কারও জীবনে অশান্তির কারণ হতে চায়নি। কারও সঙ্গে অকারণে তর্ক করা, কাউকে কষ্ট দেওয়া কিংবা নিজের দুঃখ দিয়ে অন্যের মন ভারী করে তোলা—এসব তার স্বভাবের সঙ্গে মেলে না।

কিন্তু জুমি হয়তো তখনও জানত না, যে মানুষটা সবার জীবনে শান্তি চায়, অনেক সময় তার নিজের জীবনেই শান্তি সবচেয়ে দুর্লভ হয়ে ওঠে।

জুমির জীবনেও দিন আসে, রাত আসে। অন্য সবার মতো তারও হাসি আছে, অভিমান আছে, কিছু অপূর্ণ ইচ্ছা আছে। কিন্তু তার দিনগুলোর আড়ালে জমে থাকে এমন কিছু কষ্ট, যেগুলোর কথা সে কাউকে ঠিক করে বলতে পারে না। কখনো সামান্য একটা ঘটনা তার মনে অনেক বড় দুশ্চিন্তার জন্ম দেয়। কখনো ভবিষ্যতের কথা ভাবতে গিয়ে বুকের ভেতর অজানা একটা ভয় জমে ওঠে। কখনো মনে হয়, এত কিছু সামলে আর কতদূর এগোনো সম্ভব?

তবুও সে চুপ করে থাকে।

কারণ জুমি জানে, সবাই তার কথা শুনলেও সবাই তার মনের ভার বুঝবে না। কেউ হয়তো বলবে, “এত চিন্তা করো কেন? সব ঠিক হয়ে যাবে।” কেউ হয়তো হাসতে হাসতে বুঝিয়ে দেবে, জীবন এমনই। কিন্তু যারা বলে, সব ঠিক হয়ে যাবে, তারা কি কখনো ভেবে দেখে—যে মানুষটাকে এই কথাটা বলা হচ্ছে, সে কত দিন ধরে নিজের ভেতরে কত কিছু ঠিক করার চেষ্টা করে যাচ্ছে?

জুমিও তো চায় কেউ একবার তার পাশে বসুক। কোনো উপদেশ না দিয়ে, কোনো প্রশ্ন না করে, শুধু বলুক, “তুমি অনেক ক্লান্ত, তাই না? সব সময় শক্ত থাকার দরকার নেই। তোমারও কষ্ট পাওয়ার অধিকার আছে।”

কিন্তু জীবনে এমন কিছু কথা থাকে, যেগুলো শোনার জন্য মন অপেক্ষা করে থাকে দীর্ঘ সময়। আর সেই অপেক্ষা কখনো কখনো এত দীর্ঘ হয় যে, একসময় মানুষ অপেক্ষা করাটাই ভুলে যেতে শেখে।

এক বুক দুশ্চিন্তা, আর মুখে নীরবতা

জুমির সবচেয়ে কঠিন সময়গুলো আসে তখন, যখন তার মাথার ভেতর হাজারটা চিন্তা একসঙ্গে ভিড় করে। কোনটা আগে সামলাবে, কোন সমস্যার সমাধান কোথায় খুঁজবে, ভবিষ্যৎটা কোন দিকে যাবে—কিছুই যেন পরিষ্কার বোঝা যায় না।

একটা দুশ্চিন্তা শেষ হতে না হতেই আরেকটা এসে দাঁড়ায়। একটা বাধা পেরিয়ে একটু স্বস্তির নিশ্বাস নিতে না নিতেই সামনে দেখা দেয় নতুন কোনো অনিশ্চয়তা। কখনো মনে হয়, জীবন যেন তাকে একটু থামতে দিতে চায় না। একটু শান্তি পাওয়ার আগেই আবার নতুন করে নিজেকে সামলাতে হয়।

রাতের নীরবতা তখন তার সবচেয়ে বড় সঙ্গী হয়ে ওঠে।

চারপাশ যখন ঘুমিয়ে পড়ে, জুমির মনে তখন পুরোনো কথা, না-পাওয়ার হিসাব আর আগামী দিনের ভয়গুলো জেগে ওঠে। দিনের বেলায় যেসব চিন্তা কাজের ভিড়ে চাপা থাকে, রাতের অন্ধকারে সেগুলোই যেন আরও স্পষ্ট হয়ে দেখা দেয়। সে ভাবে, কেন এত চেষ্টা করার পরও মনটা শান্ত হয় না? কেন কিছু কষ্ট কাউকে বোঝানো যায় না? কেন নিজের জীবনটাকে একটু গুছিয়ে নেওয়ার ইচ্ছেটুকুও কখনো কখনো এত কঠিন মনে হয়?

কিছু প্রশ্নের উত্তর সে পায় না।

শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজেকে বোঝায়, “না, এভাবে ভেঙে পড়লে চলবে না। আমাকে আবারও চেষ্টা করতে হবে।”

কিন্তু নিজেকে বারবার শক্ত থাকতে বলা আর সত্যিই শক্ত থাকতে পারা—দুটো এক জিনিস নয়। কখনো কখনো মানুষের সবচেয়ে বড় ক্লান্তি আসে নিজের কষ্টের সঙ্গে লড়তে লড়তে, নিজের মনকে বারবার সান্ত্বনা দিতে দিতে।

জুমিরও এমন দিন আসে, যখন সে আর কাউকে কিছু বোঝাতে চায় না। কারও কাছে নিজের দুঃখের ব্যাখ্যা দিতে ইচ্ছে করে না। শুধু মনে হয়, একটু নির্ভার হয়ে বসবে, কিছুক্ষণ সব চিন্তা ভুলে থাকবে। অথচ মনকে ভুলিয়ে রাখা কি এত সহজ?

হাসির আড়ালে যে মানুষটি প্রতিদিন একটু একটু করে ক্লান্ত হয়

জুমিকে দেখে হয়তো কেউ বুঝতে পারে না, তার ভেতরে কতটা অস্থিরতা জমে আছে। সে স্বাভাবিকভাবে কথা বলে, হাসে, মানুষের সঙ্গে মিশে থাকে। বাইরে থেকে সবকিছু ঠিকঠাক মনে হলেও তার ভেতরের গল্পটা একেবারেই আলাদা।

অনেক সময় সে নিজের কষ্ট নিজেই লুকিয়ে রাখে। ভাবে, অন্যকে নিজের দুঃখ বলে কী হবে? কেউ যদি বুঝতেই না পারে, তাহলে বারবার নিজের ক্ষতগুলো খুলে দেখিয়ে লাভ কী?

তাই সে চুপ করে যায়।

তারপর সেই চুপ করে থাকার মধ্যেই জমে ওঠে অভিমান। নিজের ওপর অভিমান, পরিস্থিতির ওপর অভিমান, আর কখনো কখনো সেই জীবনটার ওপরও অভিমান—যে জীবন থেকে সে খুব বেশি কিছু চায়নি, অথচ বারবার তাকে কঠিন পরীক্ষার সামনে দাঁড় করিয়েছে।

তবুও জুমি কাউকে দোষ দিতে চায় না। সে জানে, সবার জীবনেই নিজস্ব লড়াই থাকে। কিন্তু এই কথাটা জানার পরও তার নিজের কষ্টগুলো কমে যায় না। অন্যের দুঃখের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া যায়, অন্যের কষ্ট বোঝার চেষ্টা করা যায়, কিন্তু নিজের বুকের ভেতর জমে থাকা ভারটা তো শেষ পর্যন্ত নিজেরই বহন করতে হয়।

কখনো তার মনে হয়, সে যদি একদিন সত্যিই ভেঙে পড়ে, তাহলে কে বুঝবে? কে খেয়াল করবে, যে মানুষটা এত দিন ধরে নিজেকে সামলে রেখেছিল, তারও একসময় সামলানোর শক্তি ফুরিয়ে যেতে পারে?

এই ভাবনাটা তাকে আরও নীরব করে দেয়।

তবুও সে নিজেকে আশ্বাস দেয়

এত কিছুর পরও জুমি পুরোপুরি আশা ছেড়ে দিতে পারে না। মনের এক কোণে সে বিশ্বাস করতে চায়, হয়তো একদিন পরিস্থিতি বদলাবে। হয়তো আজ যে পথটা এত কঠিন মনে হচ্ছে, কাল সেই পথেই একটু আলো দেখা যাবে। হয়তো যে দুশ্চিন্তাগুলো আজ তাকে ঘুমাতে দেয় না, একদিন সেগুলোর উত্তর খুঁজে পাবে।

সে নিজেকে বলে, “একটু ধৈর্য ধরো, জুমি। সব সময় তো এমন থাকবে না। আজ যে কষ্টগুলো তোমাকে কাঁদাচ্ছে, একদিন হয়তো সেগুলোই তোমাকে আরও অভিজ্ঞ করে তুলবে। আজ যে পথটা এত অন্ধকার, হয়তো তার শেষেও আলো আছে।”

এই কথাগুলো ভাবলে কিছুক্ষণের জন্য তার মনটা হালকা হয়। সে আবার নতুন করে চেষ্টা করার কথা ভাবে। নিজের জীবনটাকে একটু গুছিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখে। ভাবে, এবার হয়তো একটু ভালো সময় আসবে। এবার হয়তো পরিশ্রমের পর কিছুটা স্বস্তি মিলবে। এবার হয়তো মন খুলে হাসতে পারবে, কোনো অজানা ভয় ছাড়া আগামী দিনের কথা ভাবতে পারবে।

আশ্বাস মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে—অন্তত আরও কিছুটা পথ চলার সাহস দেয়।

জুমিও সেই আশ্বাস আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকে। কখনো নিজের মনকে বোঝায়, কখনো ভবিষ্যতের কাছে ছোট্ট একটা প্রার্থনা রাখে। তার চাওয়া খুব বেশি নয়। সে শুধু চায়, জীবনের প্রতিটি দিন যেন নতুন কোনো দুশ্চিন্তার নাম না হয়। চায়, একদিন ঘুম থেকে উঠে মনে হোক, আজ আর কিছু নিয়ে ভয় পাওয়ার দরকার নেই। আজ একটু শান্তিতে থাকা যাবে।

কিন্তু জীবন সব সময় মানুষের আশ্বাসের ভাষা বোঝে না।

কিছু অপেক্ষা দীর্ঘ হয়, কিছু স্বপ্ন নীরবে ফিকে হয়ে যায়

দিন পেরিয়ে যায়। জুমি চেষ্টা করে। নিজেকে সামলায়। নতুন করে শুরু করার কথা ভাবে। তবুও কিছু সমস্যা যেন পিছু ছাড়তে চায় না। যে স্বস্তির জন্য সে অপেক্ষা করে, তা বারবার দূরে সরে যায়। যে নিশ্চিন্ত সকালটার স্বপ্ন সে দেখে, তার আগের রাতগুলো যেন শেষ হতে চায় না।

একসময় তার মনে প্রশ্ন জাগে—আর কত দিন?

আর কত দিন নিজের মনকে বোঝাতে হবে? আর কত দিন প্রতিটি সমস্যার সামনে দাঁড়িয়ে বলতে হবে, “আমি পারব”? আর কত দিন নিজের কষ্টগুলোকে ছোট করে দেখতে হবে, শুধু এই আশায় যে আগামীকাল হয়তো একটু ভালো হবে?

সে জানে, হাল ছেড়ে দেওয়া কোনো সমাধান নয়। সে জানে, জীবনে ধৈর্য দরকার, চেষ্টা দরকার, নিজের ওপর বিশ্বাস রাখা দরকার। কিন্তু সে এটাও অনুভব করতে শুরু করে, শুধু বিশ্বাস ধরে রাখলেই সব পরিস্থিতি বদলে যায় না। শুধু ভালো কিছু হবে ভেবে অপেক্ষা করলেই সব অপেক্ষার শেষ হয় না।

কিছু দরজা অনেক চেষ্টা করেও খোলে না। কিছু প্রশ্নের উত্তর মেলে না। কিছু দুশ্চিন্তা কমানোর চেষ্টা করেও মন পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হয় না। আর কিছু স্বপ্ন—যেগুলো একসময় খুব কাছের বলে মনে হয়েছিল—সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যেন আরও দূরে চলে যায়।

জুমি তখনও কাউকে খুব বেশি কিছু বলে না। তার নীরবতা আগের মতোই থাকে। শুধু সেই নীরবতার ভেতরে এখন ক্লান্তি একটু বেশি, অনিশ্চয়তা একটু গভীর, আর আশ্বাসের কথাগুলো যেন আগের মতো শক্তি জোগায় না।

শেষ পর্যন্ত জুমির গল্পটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াল?

একদিন বিকেলে জুমি চুপচাপ বসে ছিল। আকাশে আলো ছিল, বাতাসে ছিল দিনের শেষের নরম বিষণ্নতা। চারপাশে সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলছিল—মানুষ ফিরছিল ঘরে, কেউ আগামী দিনের পরিকল্পনা করছিল, কেউ হয়তো কোনো সুখবরের অপেক্ষায় ছিল।

জুমি শুধু নিজের জীবনের কথা ভাবছিল।

তার মনে পড়ল, কতবার সে নিজেকে বলেছে—সব ঠিক হয়ে যাবে। কতবার ভেবেছে, আর একটু ধৈর্য ধরলেই হয়তো স্বস্তি আসবে। কতবার নিজের কষ্টকে আড়াল করে হাসার চেষ্টা করেছে, কতবার ভেঙে পড়ার পর আবার উঠে দাঁড়িয়েছে।

সে তো চেষ্টা কম করেনি।

নিজের মতো করে লড়েছে। নিজের মতো করে আশা করেছে। নিজের মতো করে ভবিষ্যতের কাছে একটু শান্তি চেয়েছে। কিন্তু সব চাওয়া পূরণ হয় না, সব সংগ্রাম সঙ্গে সঙ্গে সাফল্যের পথ দেখায় না, আর সব অপেক্ষার শেষে কাঙ্ক্ষিত উত্তরও এসে দাঁড়ায় না।

সেদিন জুমি প্রথমবারের মতো নিজের মনকে আর কোনো বড় আশ্বাস দিল না।

নিজেকে বলল না, “কাল সব ঠিক হয়ে যাবে।”

বলল না, “আর একটু অপেক্ষা করলেই সুখ আসবে।”

শুধু দীর্ঘ সময় আকাশের দিকে তাকিয়ে রইল। তার চোখে হয়তো জল ছিল, হয়তো ছিল না। কিন্তু তার ভেতরে যে মানুষটা এত দিন ধরে ভালো দিনের স্বপ্ন দেখেছিল, সে মানুষটা সেদিন ভীষণ ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল।

জুমি বুঝতে পারল, সে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কিছুই জানে না। সামনে তার জন্য স্বস্তি অপেক্ষা করছে, নাকি আরও কিছু কঠিন দিন—তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। হয়তো একদিন পরিস্থিতি বদলাবে। হয়তো কোনো এক সকালে তার মন সত্যিই হালকা হবে। আবার হয়তো আরও অনেক দিন তাকে এই অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়েই চলতে হবে।

কেউ তাকে নিশ্চিত করে বলতে পারবে না, তার কষ্টের শেষ কোথায়।

আর এটাই হয়তো তার গল্পের সবচেয়ে গভীর দুঃখ—জুমি শুধু কষ্ট পাচ্ছে না; সে জানেও না, এই কষ্টের অধ্যায়টা আর কত দীর্ঘ হবে।
রাত নামল। চারপাশ ধীরে ধীরে নীরব হয়ে এল। জুমি নিজের জায়গায় বসে রইল, যেমন করে সে বহু রাত বসে থেকেছে। তার সামনে ছিল কিছু অপূর্ণ স্বপ্ন, পেছনে ছিল অসংখ্য ক্লান্ত দিনের স্মৃতি, আর মাঝখানে ছিল এক অনিশ্চিত বর্তমান।
সে একসময় নিজেকে অনেক আশ্বাস দিয়েছিল। বিশ্বাস করেছিল, প্রতিটি অন্ধকারের পর আলো আসে। কিন্তু সেদিন তার মনে হলো, সব অন্ধকারের শেষ কখন হবে, তা কেউ জানে না।
হয়তো জীবন একদিন তাকে নতুন কোনো পথ দেখাবে। হয়তো দেখাবে না। হয়তো তার গল্পে এমন একটি সকাল আসবে, যেদিন সে বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারবে। আবার হয়তো সেই সকালের অপেক্ষায় তাকে আরও অনেক রাত পার করতে হবে।
জুমি জানে না।শুধু জানে, সে ক্লান্ত। খুব ক্লান্ত।
আর সেই ক্লান্তির কথা বলার মতো কাউকে না পেয়ে সে আবারও নীরব হয়ে যায়।
জুমির গল্প এখানেই শেষ নয়—কিন্তু তার গল্পের পরের পাতায় কী লেখা আছে, সেটাও সে জানে না।
কিছু গল্পের শেষ হয় না; শুধু গল্পের মানুষটি একসময় আর বলতে পারে না, সে কতটা কষ্ট পেয়েছে। বাইরে থেকে জীবন চলতে থাকে, দিন বদলায়, সময় এগিয়ে যায়। অথচ মনের ভেতরে কিছু প্রশ্ন রয়ে যায় উত্তরহীন, কিছু অপেক্ষা রয়ে যায় অসমাপ্ত, আর কিছু আশ্বাস একদিন নিজের কাছেই ফাঁকা শোনায়।
জুমি হয়তো আগামীকাল আবার হাসবে, আবার স্বাভাবিকভাবে কথা বলবে, আবার নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বে। সবাই ভাববে, সে ভালো আছে।
কিন্তু কেউ হয়তো জানবে না—সেই হাসির আড়ালে আজও একজন মানুষ অপেক্ষা করে আছে, তার জীবনের কঠিন দিনগুলো সত্যিই কোনোদিন শেষ হবে কি না, সেই উত্তরটির জন্য।
আর রাতের শেষে যখন চারপাশ নিস্তব্ধ হয়ে আসে, জুমির মনে শুধু একটি প্রশ্নই ঘুরে ফিরে আসে—“আমি এত দিন ধরে যে শান্তির অপেক্ষায় আছি, সেই শান্তিটুকু কি সত্যিই কোনোদিন আমার জীবনে আসবে?”
প্রশ্নটি বাতাসে মিলিয়ে যায়। কোনো উত্তর আসে না।
শুধু রাত আরও গভীর হয়, আর জুমির অসমাপ্ত সংগ্রাম নীরবে চলতে থাকে…