‘নিজে বাঁচুন-অন্যকে বাঁচতে সাহায্য করুন’ এই প্রতিপাদ্যে কানাডার টরন্টোয় অত্যন্ত জমকালো, বর্ণাঢ্য ও আনন্দঘন আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘গোলাপগঞ্জ ফাউন্ডেশন অব টরন্টো’ (জিএফটিও)-এর বার্ষিক ডোনার এপ্রিসিয়েশন গালা এবং স্কলারশিপ ইভেন্ট। স্কারবরোর কেএস২ হালাল স্টেক অ্যান্ড গ্রিল মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি গোলাপগঞ্জ, সিলেটসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রবাসী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।
সংগঠনের সভাপতি সাব্বির চৌধুরী লিটনের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। তিনি সংগঠনের সকল মানবিক ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পে অব্যাহত সহায়তার জন্য সম্মানিত দাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা মানবতার সেবায় জিএফটিও-এর ধারাবাহিক সামাজিক কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, প্রবাসে থেকেও দেশের অসহায় ও দুস্থ মানুষের কল্যাণে সংগঠনটি যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তা সত্যিই অনুকরণীয়। বক্তারা আগামী দিনে সংগঠনের প্রতিটি মানবিক উদ্যোগে আরও বড় পরিসরে পাশে থাকার দৃঢ় আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল আগামী ২০২৭ সালের জন্য ফাউন্ডেশনের নতুন মানবিক প্রকল্প ‘ক্রেইট এ জব, সেইভ এ ফ্যামেলি’ (Create a Job, Save a Family)-এর শুভ সূচনা ঘোষণা। প্রকল্পটির রূপরেখা তুলে ধরে শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন কর্মসূচির কনভেনার ও সংগঠনের সাবেক সভাপতি নওয়াজ চৌধুরী সাজু।
বক্তব্যে তিনি বলেন, "গোলাপগঞ্জ ফাউন্ডেশন অব টরন্টো ইতোমধ্যে মানবতা, একতা এবং একাগ্রতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যা গোলাপগঞ্জ ও টরন্টোর মধ্যে এক মজবুত সেতুবন্ধন তৈরি করেছে।" এই নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে গোলাপগঞ্জ উপজেলার বেকার ও অসহায় পরিবারগুলোকে আত্মকর্মসংস্থানের পথ দেখিয়ে স্থায়ীভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবু জহির মোহাম্মদ সাকিব এবং দিয়ানাহ চৌধুরী ও ফাবিহা চৌধুরীর যৌথ সঞ্চালনায় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শুরু করে জিএফটিও-এর সামগ্রিক মানবিক অগ্রযাত্রা ও দরিদ্র পরিবারগুলোর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন ‘ক্রেইট এ জব, সেইভ এ ফ্যামেলি’-এর সাবেক কনভেনার ছাদ চৌধুরী। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জমসেদ মিশকাত চৌধুরী, মিসবাহুল কাদির ফাহিম, ট্রেজারার জুবায়ের আহমদ সিপিএ, রিফাত চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাবির আহমদ শাহিন এবং জুয়েল আহমেদ।
অনুষ্ঠানে গোলাপগঞ্জে বাস্তবায়িত জিএফটিও-এর বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগের ওপর একটি বিশেষ স্লাইডশো প্রদর্শন করা হয়। ভিডিও চিত্রগুলোতে ফুটে ওঠে কীভাবে সংগঠনটি বিগত বছরগুলোতে দেশে স্বাবলম্বীকরণ কর্মসূচির আওতায় অসহায় পরিবারগুলোকে টমটম (ইজি বাইক) এবং সেলাই মেশিন বিতরণ করে জীবনযাত্রার মান বদলে দিয়েছে। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগে বন্যা ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরি অনুদান, ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক চিকিৎসা সহায়তা, করোনা মহামারীতে খাদ্য ও চিকিৎসা সহযোগিতা এবং পবিত্র রমজান মাসজুড়ে দরিদ্র পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে ‘ফিড এ ফ্যামেলি’ কর্মসূচির বাস্তব চিত্র দর্শকদের আবেগপ্লুত করে।
সংগঠনের অগ্রগতিতে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মানিত ডোনারদের হাতে বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। সম্মাননা প্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রাফি আহমদ, জুবায়ের চৌধুরী, ব্যারিস্টার ওমর জাহিদ, ফয়সল আহমদ, আনিসুর রহমান, তায়েফ চৌধুরী, সারওয়ার আহমেদ, ফেরদৌস আহমেদ, রেহান আহমদ, তানভীর আহমদ চৌধুরী, ব্যারিস্টার আরিফ হোসেন, ইসমত চৌধুরী, আলী কায়সার খান, ব্যারিস্টার জাকির সরকার এবং রাহাত চৌধুরী প্রমুখ।
সম্মাননা স্মারক তুলে দেন সংগঠনের উপদেষ্টা জালাল চৌধুরী, মোজাহেদুল ইসলাম, লায়েকুল হক চৌধুরী, জাহিদুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম আজাদ, মিজানুর রহমান, এম আজিজ, লায়েক চৌধুরী, রফিক আহমদ, সেলিম আহমদ, জমসেদ মিশকাত চৌধুরী, নিজাম মুর্শেদ সিপিএ, আসাদ আহমেদ, মনজুর আহমেদ মিজান চৌধুরী, শওকত হোসেন, সাজলু লস্কর, মনসুর আহমেদ, সামন চৌধুরী, নেহাল চৌধুরী, সামিল সাদিক চৌধুরী এবং রাজনীতিক আহসানুল হাফিজ।
অনুষ্ঠানের প্রথমার্ধে স্কলারশিপ ডিস্ট্রিবিউশন পর্বটি পরিচালনা করেন সংগঠনের সাবেক ট্রেজারার মুক্তার হোসেন বাহার। এতে মেধা ও অসাধারণ সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ও স্কলারশিপ তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপদেষ্টা মহিউদ্দিন আহমদ, আনাই মিয়া, দুলাল আহমদ চৌধুরী, ফয়জুল করিম, আবুল হাসনাত, মঈন উদ্দিন চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার শাহরিয়ার হোসেন কোরেশী এবং ইঞ্জিনিয়ার নাহিদ চৌধুরী।
মানবতা উদযাপন, আনন্দঘন মুহূর্ত এবং আগামী দিনে আর্তপীড়িত মানুষের পাশে আরও সুদৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার নিয়ে অনুষ্ঠানটির সফল সমাপ্তি ঘটে।
Sylhet21 চ্যাট