
প্রায় চার বছর আগে আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগর একটি মহিলা কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। তার ওই মাদরাসায় মা-বাবা ছাড়া ১১ বছর বয়সী এক শিশু পড়াশোনা করতো। শিশুটির মা-বাবার বিচ্ছেদের পর সে নানার বাড়িতে থেকে ওই মাদরাসায় পড়াশোনা করত। এদিকে শিশুটির মা জীবিকার তাগিদে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। একপর্যায়ে শিশুটির শারীরিক অবস্থায় পরিবর্তন দেখা দেয় এবং সে অসুস্থ বোধ করতে থাকে।বিষয়টি জানতে পেরে গত ১৮ এপ্রিল তার মা নেত্রকোনার মদন পৌর শহরের একটি ক্লিনিকে মেয়েকে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের পর গ্রেফতার করা হয় শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরকে। সিলেটের একটি সেফ হোমে জন্ম নেওয়া ওই নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে নেত্রকোনার মদনে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া নবজাতকের জৈবিক বাবা হিসেবে মামলার আসামি মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরই শনাক্ত হয়েছেন। সোমবার (২৪ আগস্ট) আদালতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল কবীর রুবেল।তিনি বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া নবজাতকের জৈবিক বাবা হিসেবে মামলার আসামি আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরকে শনাক্ত করা হয়েছে। সোমবার তাকে আদালতে হাজির করে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। মামলাটির বিচার আগামী ৬০ দিনের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।মামলার সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগর একটি মহিলা কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিশুটির মা-বাবার বিচ্ছেদের পর সে নানার বাড়িতে থেকে ওই মাদরাসায় পড়াশোনা করত। এদিকে তার মা জীবিকার তাগিদে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন।একপর্যায়ে শিশুটির শারীরিক অবস্থায় পরিবর্তন দেখা দেয় এবং সে অসুস্থ বোধ করতে থাকে। বিষয়টি জানতে পেরে গত ১৮ এপ্রিল তার মা মদন পৌর শহরের একটি ক্লিনিকে মেয়েকে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা। এরপর ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার পর ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র্যাব তাকে গ্রেফতার করে। পরদিন আদালত তাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান। রিমান্ড শেষে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পর আদালত তার ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন।শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়ে আদালতের নির্দেশে ১২ মে তাকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানো হয়। সেখানে গত ২ জুলাই সে একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেয়। পরে নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ৯ জুলাই পুলিশ আদালতে আবেদন করে। আদালতের অনুমতি পাওয়ার পর ২৮ জুলাই সিলেটের ওই সেফ হোমে নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।