প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 27, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 27, 2026 ইং
ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার অভিযোগে শাহজালাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ডাক্তার সৈয়দ নাদিম আহমদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ও জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর বটেরতল এলাকায় অবস্থিত ‘শাহজালাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এ ভুল চিকিৎসা এবং রোগীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ডায়াগনস্টিক সেন্টারটির চিকিৎসক ডাক্তার সৈয়দ নাদিম আহমদের ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে বর্তমানে এক রোগী সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে জরুরি অপারেশনের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী রোগী শারীরিক আঘাত পেয়ে জগন্নাথপুর বটেরতল শাহজালাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আসেন এবং এক্স-রে করান। এক্স-রে রিপোর্টে স্পষ্ট দেখা যায় যে, ১ নং চিহ্নিত অংশে জয়েন্ট ঠিক থাকলেও ২ নং চিহ্নিত অংশে হাড়ে বড় ধরনের ভাঙন রয়েছে। কিন্তু ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসক ডাক্তার সৈয়দ নাদিম আহমদ এক্স-রে রিপোর্ট সঠিকভাবে পর্যালোচনা না করেই রোগীকে জানান, হাড়ে কোনো ভাঙন নেই এবং ওষুধ খেলেই ব্যথা সেরে যাবে।
চিকিৎসকের চিকিৎসায় আশ্বস্ত হয়ে রোগী বাড়ি ফিরে যান। তবে ১ সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও রোগীর শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি এবং ব্যথার তীব্রতা বাড়তে থাকে। পরবর্তীতে কোনো উপায় না পেয়ে স্বজনরা রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে নিয়ে আসেন। সিলেটে প্রখ্যাত চিকিৎসক ডাক্তার সাইরাস সাকিবের নিকট দেখানো হলে, তিনি জগন্নাথপুরে করানো পূর্বের এক্স-রে রিপোর্টটি দেখেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, হাড়ে স্পষ্ট ভাঙন থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ এক সপ্তাহ ভুল চিকিৎসা দিয়ে সময় নষ্ট করা হয়েছে। রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তিনি অবিলম্বে হাসপাতালে ভর্তি করে জরুরি অস্ত্রোপচার (Operation) করানোর পরামর্শ দেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার লোক বর্তমান মেম্বার মামুন আহমেদ চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে জানান, "গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ সঠিক চিকিৎসার আশায় চিকিৎসকদের কাছে যায়। কিন্তু যদি অভিজ্ঞতাহীনতা কিংবা অবহেলার কারণে এভাবে ভুল চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং নিরীহ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?"
জগন্নাথপুর উপজেলাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান চিকিৎসা সেবার নামে এ ধরনের মারাত্মক অবহেলা ও প্রতারণা বন্ধে অবিলম্বে তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল জগন্নাথপুর উপজেলা প্রশাসন (ইউএনও জগন্নাথপুর), জগন্নাথপুর থানা পুলিশ, উপজেলা ভূমি অফিস এবং জেলা প্রশাসক (DC Sunamganj)-এর দৃষ্টি ও জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। অভিযুক্ত ডাক্তার সৈয়দ নাহিম আহমেদ সাথে যোগাযোগ করা হলে উনার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
© ২০২৪ - ২৬ সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ সিলেট ২১