
সিলেট নগরে সাম্প্রতিক সময়ে মশার উপদ্রব মারত্মক আকারে বেড়েছে দিন বা রাত সবসময়ই মশার যন্ত্রণা পোহাতে হচেছ। এতে অতীষ্ঠ হয়ে ওঠেছেন নগরবাসী। মশার কারণে ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়াসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বেড়েছে। এতেসিবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। এ অবস্থায় এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসসহ মশক নিধনে বিশেষ অভিযান (ক্রাশ প্রোগ্রাম) শুরু করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে নগরীর ১ নম্বর ওয়ার্ডের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
কার্যক্রম উদ্বোধনের পর সিসিক প্রশাসক নিজে ফগার মেশিন হাতে নিয়ে মশক নিধন কার্যক্রমে অংশ নেন এবং কর্মীদের উৎসাহিত করেন। এ সময় তিনিও বলেন, ইদানীং সিলেটে মশার উপদ্রব বেড়েছে। এতে নগরবাসী দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। মশক নিধনে আমরা কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিসিকের সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং মশক নিধন কর্মীরা।
অনুষ্ঠানে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সিসিক অত্যন্ত সতর্ক। সম্প্রতি নগরীতে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা এই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছি। যদিও সিলেটে এ পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া ডেঙ্গু রোগীরা বাইরে থেকে সংক্রমিত হয়ে এসেছেন, তবুও আমরা বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।
তিনি আরও জানান, নগরীর ৪২টি ওয়ার্ডেই পর্যায়ক্রমে এই অভিযান চালানো হবে। প্রথম ধাপে ১০টি ওয়ার্ডে কাজ শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রকৌশল বিভাগের যৌথ সমন্বয়ে এই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সিসিকের কাছে পর্যাপ্ত ওষুধ সংরক্ষিত রয়েছে এবং আশা করা যাচ্ছে এক মাসের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।
মশক নিধনের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, বাসাবাড়ি বা আঙিনায় যাতে জমে থাকা পানি না থাকে, সে বিষয়ে মসজিদ, মার্কেট ও মহল্লায় লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং করা হচ্ছে। মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে তিনি নগরবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।