নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেপাড়ায় কর্মচাঞ্চল্য
দুই মাসের নি ষে ধা জ্ঞা শেষ: সুন্দরবনে শুরু হলো কাঁকড়া আহরণ
- আপডেট সময়ঃ ০২:৪৬:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
- / ১৯২ বার পড়া হয়েছে।

দীর্ঘ দুই মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আজ রোববার (১ মার্চ) থেকে বিশ্বখ্যাত ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে আবারও শুরু হয়েছে কাঁকড়া আহরণ। বন বিভাগের অনুমতিপত্র (পাস) নিয়ে ভোরের আলো ফোটার আগেই উপকূলীয় জেলেরা বনের নদী ও খালে জাল ও খাঁচা নিয়ে নেমে পড়েছেন। কাজে ফিরতে পেরে জেলে পরিবারগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে স্বস্তি ও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
সরেজমিনে সুন্দরবন সংলগ্ন হরিনগর ও বুড়িগোয়ালিনী জেলেপাড়ায় গিয়ে দেখা যায় এক উৎসবমুখর পরিবেশ। জেলেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন নৌকায় কাঁকড়া ধরার সরঞ্জাম গোছাতে। কেউ নৌকার ইঞ্জিন পরীক্ষা করছেন, কেউবা দোন-দড়ি ও খাঁচা সাজাচ্ছেন। দীর্ঘ বিরতির পর জীবিকার সন্ধানে বনে প্রবেশের প্রস্তুতিতে সবার মধ্যেই ছিল নতুন উদ্দীপনা।
হরিনগর গ্রামের জেলে অরুণ মণ্ডল জানান, “গত দুই মাস আয়-রোজগার পুরোপুরি বন্ধ ছিল। সংসার চালাতে মহাজনের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ নিতে হয়েছে। আশা করছি এখন ভালো কাঁকড়া ধরতে পারলে সেই ঋণ শোধ করে আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারব।” একই প্রত্যাশা বুড়িগোয়ালিনীর জেলে রফিকুল ইসলামেরও। তিনি জানান, নিষেধাজ্ঞার সময়ে দিনমজুরি করে সংসার চালানো কঠিন ছিল, এখন কাঁকড়া আহরণ শুরু হওয়ায় ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এই রেঞ্জের আওতায় বুড়িগোয়ালিনী, কদমতলা, কৈখালী ও কোবাদক ফরেস্ট স্টেশনে মোট ২ হাজার ৯০০টি নৌকার সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি রয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৬০০টি নৌকা শুধু কাঁকড়া আহরণের জন্য নিবন্ধিত। বৈধ পাসধারী প্রায় ১৫ হাজার জেলে এই বনের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মশিউর রহমান জানান, প্রতি বছর জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাস কাঁকড়ার প্রধান প্রজনন মৌসুম। এ সময় কাঁকড়া ডিম পাড়ে এবং বাচ্চা ফুটে বংশবিস্তার করে। বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষা ও প্রাকৃতিক সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই দুই মাস আহরণ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়। তিনি আরও জানান, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নিয়ম অমান্য করে অবৈধভাবে কাঁকড়া ধরার দায়ে ২৫ থেকে ৩০টি মামলা করা হয়েছে।
বন বিভাগ স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই আহরণ নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যৎ বংশবৃদ্ধি নির্বিঘ্ন রাখতে প্রতি বছরই এই মৌসুমি নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকবে।










