রামেক হাসপাতালের ভুয়া ছাড়পত্রে ফেঁসে গেলেন যুবদল নেতা রবি
রাজশাহীতে ভু/য়া ছাড়পত্রে বিএনপি নেতা জেলহাজতে: ফেঁ/সে যাচ্ছেন বাদী ফয়সাল
- আপডেট সময়ঃ ০৯:০২:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
- / ৪৮ বার পড়া হয়েছে।

রাজশাহী মহানগরীতে এক মাদকাসক্ত যুবকের সরবরাহকৃত ভুয়া মেডিকেল ছাড়পত্রের ওপর ভিত্তি করে দায়ের করা মামলায় জেলহাজতে রয়েছেন যুবদল নেতা রবি। মামলার নথিপত্র ও অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যে ছাড়পত্রের ওপর ভিত্তি করে এই মামলা সাজানো হয়েছে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে তার কোনো অস্তিত্বই নেই।
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, গত ৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে রাজশাহী শিরোইল কলোনী হাজরাপুকুর এলাকার মো. আতাউর রহমান খন্দকারের ছেলে মো. ফয়সাল খন্দকার বাদী হয়ে যুবদল নেতা রবি ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে দাবি করা হয়, গত ২ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ বিকেলে হাজরাপুকুর এলাকায় রবি ও তার আত্মীয়রা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ফয়সালকে আঘাত করে। এরপর এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেলের ১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করে এবং তিনি ৪ নভেম্বর পর্যন্ত সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য:
তদন্তে দেখা গেছে, ফয়সাল খন্দকার আদালতে যে ছাড়পত্রটি জমা দিয়েছেন সেটি সম্পূর্ণ ভুয়া। এর স্বপক্ষে বেশ কিছু অসংগতি পরিলক্ষিত হয়েছে:
ভুল ওয়ার্ড: ছাড়পত্রে ১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ১ নম্বর ওয়ার্ডটি মহিলা ও শিশুদের জন্য নির্ধারিত।
রেকর্ড নেই: হাসপাতালের রেকর্ড শাখা ও এমসি (মেডিকেল সার্টিফিকেট) শাখা অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, ২ নভেম্বর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ফয়সাল খন্দকার নামে কোনো রোগী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন না।
ডাক্তারের বক্তব্য: ছাড়পত্রে অর্থোপেডিক সার্জন ডা. আলমগীর হোসেনের নাম ও সিল ব্যবহারের চেষ্টা করা হলেও ওই চিকিৎসক জানিয়েছেন, তিনি এমন কোনো ছাড়পত্র দেননি। এমনকি ছাড়পত্রে তার স্বাক্ষর থাকলেও নামযুক্ত সিল নেই।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেকর্ড ও এমসি শাখার অফিস সহকারী নাসির জানান, চন্দ্রিমা থানার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে তারা রেকর্ড যাচাই করেছেন। গত ২১ ডিসেম্বর ফয়সাল খন্দকারকে তার ভর্তির কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলা হলে তিনি কোনো হাসপাতালের কাগজ দেখাতে পারেননি। উল্টো একটি বাইরের ক্লিনিকের এক্স-রে রিপোর্ট দেখান, যার তারিখ ছিল ২৯ অক্টোবর (ঘটনার ৪ দিন আগের)। ভর্তির কাগজ চাইলে তিনি দ্রুত সটকে পড়েন।
অন্য একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ছাড়পত্রটি ভুয়া। ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে বা পুলিশ ফাইলে তার কোনো নাম নেই। রেজিস্টারের বাইরে চিকিৎসার কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের ভুয়া ছাড়পত্র যারা কেনাবেচা করছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।”
পুলিশ ও প্রশাসনের পদক্ষেপ:
এ বিষয়ে চন্দ্রিমা থানার ওসি (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী বলেন, “আদালত থেকে কাগজ পাওয়ায় আমরা প্রক্রিয়া শুরু করেছি। তবে ছাড়পত্রটি সঠিক কি না তা যাচাইয়ের জন্য আমরা মেডিকেলে আবেদন পাঠিয়েছি। এমসি রিপোর্ট ভুয়া প্রমাণিত হলে সেই অনুযায়ী আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।”
বর্তমানে যুবদল নেতা রবি কারাগারে থাকলেও তার ছোট ভাই, বোন ও বোন জামাই এই মামলায় জামিনে রয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে ও ব্যক্তিগত শত্রুতা মেটাতে একজন মাদকাসক্ত যুবককে ব্যবহার করে এই মিথ্যা মামলা সাজানো হয়েছে। অভিযুক্ত ফয়সাল খন্দকারের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তার সরাসরি মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।



















