জকিগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীর রহ/স্যজ/নক মৃ/ত্যু: ভাসুরের বি/রু/দ্ধে গুরুতর অ/ভি/যো/গ
-
নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 17, 2026 ইং
6 বার পঠিত
ছবির ক্যাপশন:
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার খলাছড়া ইউনিয়নের মাদারখাল গ্রামে লাবণী রানী বিশ্বাস (১৯) নামে এক তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১১ মে) সকালে বাবার বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে এই মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ভাসুরের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলা হয়েছে।
নিহত লাবণী রানী বিশ্বাস মাদারখাল গ্রামের অন্নদা বিশ্বাসের মেয়ে। পারিবারিক সূত্র জানায়, মাত্র আট মাস আগে জকিগঞ্জের মানিকপুর ইউনিয়নের খাশেরা গ্রামের এক ওমানপ্রবাসীর সাথে সনাতন ধর্মীয় রীতিতে তার বিয়ে হয়। বিয়ের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তার স্বামী কর্মস্থল ওমানে ফিরে যান।
নিহতের স্বজনদের দাবি, স্বামী বিদেশে থাকার সুযোগে শ্বশুরবাড়ির ভাসুর নিত্যানন্দ বিশ্বাস লাবণীর ওপর কুদৃষ্টি দেন এবং বিভিন্ন সময় অনৈতিক সম্পর্কের কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এই বিষয়টি নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে চরম পারিবারিক অশান্তি চলছিল।বিবাদের একপর্যায়ে প্রায় এক মাস আগে লাবণী বাবার বাড়িতে চলে আসেন এবং আর শ্বশুরবাড়িতে ফিরতে রাজি হননি। নিহতের বাবা অন্নদা বিশ্বাস অভিযোগ করেন, "আমার মেয়েকে তার ভাসুর দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করে আসছিল। এসব কারণে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। এমনকি তার মৃত্যুর পর মোবাইলেও কিছু তথ্য পাওয়া গেছে।"
খবর পেয়ে জকিগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, "ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং সেই অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
অভিযুক্ত নিত্যানন্দ বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে, শ্বশুরবাড়ির অন্য সদস্যরা ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত না জানালেও লাবণী অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের মেয়ে ছিলেন বলে উল্লেখ করেন।
বর্তমানে এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদন্ত করছে বলে জানানো হয়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Sylhet 21
কমেন্ট বক্স