ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মার্কিন গ্রিন কার্ড নিয়ে বিভ্রান্তি ও বর্তমান পরিস্থিতি: একটি সামগ্রিক চিত্র

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 31, 2026 ইং 46 বার পঠিত
স্থায়ী বসবাসের স্বপ্ন: নতুন সরকারি নির্দেশনায় গ্রিন কার্ড আবেদনের দীর্ঘদিনের প্রচলিত নিয়মে বড় পরিবর্তনের আশঙ্কা। ছবির ক্যাপশন: স্থায়ী বসবাসের স্বপ্ন: নতুন সরকারি নির্দেশনায় গ্রিন কার্ড আবেদনের দীর্ঘদিনের প্রচলিত নিয়মে বড় পরিবর্তনের আশঙ্কা।
ad728

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের মধ্যে গ্রিন কার্ড আবেদনের নতুন একটি বিজ্ঞপ্তি ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে তীব্র উদ্বেগ ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছিল। অভিবাসী মহলে এই আতঙ্ক এতটাই প্রবল ছিল যে, শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে ময়দানে নামে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তর। সম্প্রতি তাদের ‘নাগরিকত্ব এবং অভিবাসন পরিষেবা বিভাগ’ একটি অভ্যন্তরীণ বিজ্ঞপ্তি জারি করে, যেখানে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে ব্যতিক্রমী কিছু ক্ষেত্র ছাড়া সব বিদেশী নাগরিককে গ্রিন কার্ডের আবেদন করার জন্য নিজ দেশে ফিরে গিয়ে কনস্যুলার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত নিয়ম ছিল, গ্রিন কার্ডের আবেদনের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আবেদনকারীরা আমেরিকাতেই অবস্থান করতে পারেন। এই নতুন বিজ্ঞপ্তির ফলে সেই দীর্ঘদিনের নিয়ম ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় লাখ লাখ অভিবাসীর মনে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তর ব্যাখ্যা দিয়ে জানিয়েছে, এটি কোনো নতুন নিয়ম বা সার্বিক নীতিগত পরিবর্তন নয়। এটি মার্কিন অভিবাসন আইনেরই একটি পুরনো অংশ, যা কেবল কর্মকর্তাদের মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। দপ্তরের বক্তব্য অনুযায়ী, গ্রিন কার্ডের আবেদনের জন্য কাকে নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে আর কে আমেরিকায় থাকতে পারবেন—সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট অভিবাসন কর্মকর্তাদের নিজস্ব বিবেচনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এটি কোনো নতুন বাধ্যতামূলক নিয়ম নয়, বরং কর্মকর্তাদের হাতে থাকা বহু বছরের পুরনো ক্ষমতার প্রয়োগ মাত্র।

সরকারিভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো তালিকা প্রকাশ না করা হলেও, দপ্তরের ইঙ্গিত অনুযায়ী মূলত দুটি শ্রেণীর ওপর কড়াকড়ির সম্ভাবনা বেশি: যারা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং যারা মার্কিন সরকারের বিভিন্ন আর্থিক ও সামাজিক সাহায্যের ওপর মাত্রাতিরিক্তভাবে নির্ভরশীল। গত সপ্তাহে এই বিজ্ঞপ্তিটি ফাঁস হওয়ার পর হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও বিষয়টিকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছে। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, এটি একটি অভ্যন্তরীণ মেমো এবং এর ফলে আমেরিকার মূল অভিবাসন নীতিতে কোনো বদল আসেনি। তবে মার্কিন প্রশাসনের এই ব্যাখ্যার পরও ঠিক কারা এবং কীভাবে এই নিয়মের দ্বারা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা বা গাইডলাইন মেলেনি। সব মিলিয়ে, সরকারি আশ্বাসে আতঙ্ক কিছুটা কমলেও, ঠিক কোন পরিস্থিতিতে একজন কর্মকর্তাকে কাউকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করার ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে—তা নিয়ে অভিবাসীদের মনে ধোঁয়াশা রয়েই গেছে। তাই আমেরিকায় স্থায়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখা অভিবাসীদের মন থেকে বিভ্রান্তি ও নির্বাসনের উদ্বেগ এখনই পুরোপুরি কাটার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট অভিবাসীদের জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে নিজেদের নথিপত্র যথাযথ রাখা এবং কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আগে বিশেষজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া।


নিউজটি আপডেট করেছেন : Sylhet 21

কমেন্ট বক্স