সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা, কর্মীদের আদর্শিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আগামী দিনের বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনের প্রস্তুতির লক্ষ্যে সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে বাছাইকৃত কর্মীদের অংশগ্রহণে এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার স্থানীয় একটি হলরুমে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। জকিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা জালাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ছরওয়ার হোসেন।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অন্যতম সদস্য ও সিলেট জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান বলেন, “জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে অতীতেও কেউ জামায়াতে ইসলামীকে নিঃশেষ করতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না, ইনশাআল্লাহ। সকল প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে সংগঠনের নেতাকর্মীদের আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে। আগামী দিনের সকল ধরনের নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনের জন্য এখন থেকেই মাঠপর্যায়ে সুসংগঠিত ও পরিকল্পিতভাবে কাজ করার বিকল্প নেই।”
তিনি আরও বলেন, আদর্শবান, দক্ষ ও জনসম্পৃক্ত কর্মী বাহিনীই একটি শক্তিশালী সংগঠনের মূল ভিত্তি। তাই প্রত্যেক কর্মীকে ইসলামী আদর্শ ধারণ করে মানুষের আস্থা অর্জনে কাজ করতে হবে এবং সমাজে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সিলেট জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ জয়নাল আবেদীন, জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য উপাধ্যক্ষ সৈয়দ মাওলানা ফয়জুল্লাহ বাহার এবং জেলা জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম। তাঁরা কর্মীদের উদ্দেশে সংগঠনের আদর্শ, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও জনসেবামূলক কার্যক্রমে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম রোকবানী চৌধুরী জাবেদ, উপজেলা অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি দেলওয়ার লস্কর, কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা জামিল আহমদ চৌধুরী মুহিব, ডা. গোলাম কিবরিয়া, মাওলানা এনামুল হক, হারুনুর রশিদ, আবু রুশদ মো. ইকবাল, বেলাল আহমদ, যুবনেতা মিজানুর রহমান, মাওলানা শাহরিয়ার হোসেন শহীদ ও শাহীন আহমদ।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ানর্ড পর্যায়ের বাছাইকৃত কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। সমাপনী বক্তব্যে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, আদর্শিক চেতনা বিকাশ এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে কর্মীদের আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।