সংসারের অভাব মেটাতে যে বয়সে হাতে বই-খাতা থাকার কথা, সেই বয়সে জীবিকার তাগিদে তুলে নিয়েছিল শ্রমিকের ভারী বোঝা। কিন্তু জীবনযুদ্ধের সেই সংগ্রাম এক নির্মম হামলায় অকালে থমকে গেল ১৬ বছর বয়সী কিশোর আহাদ আহমদের। সোমবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর পর মঙ্গলবার (৩০ জুন) শেষ বিকেলে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছে এই শিশু শ্রমিক।
শেষ বিদায়ের করুণ দৃশ্য মঙ্গলবার বিকেলে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে আহাদের মরদেহ তার নিজ বাড়িতে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। একমাত্র ভাইকে হারিয়ে ছোট বোনের আহাজারি আর নানা-নানির কান্নায় এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। বাদ মাগরিব দলইমাটি জামে মসজিদে জানাজা শেষে গ্রামের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্বজনরা অংশ নেন।
ঘটনার সূত্রপাত জানা গেছে, গত রোববার (২৮ জুন) রাত ৮টার দিকে কানাইঘাট উপজেলা রোডের একটি ওয়ার্কশপে সায়েম আহমদ নামের এক যুবকের সঙ্গে আহাদের কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সায়েম দোকানে থাকা একটি স্ক্রু-ড্রাইভার দিয়ে আহাদের মাথায় আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সোমবার সকালে তার মৃত্যু হয়। অভিযোগ রয়েছে, আহাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরপরই ঘাতক সায়েম হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়।
সংগ্রামময় জীবন ও আইনি পদক্ষেপ আহাদের জীবন ছিল অভাবের সাথে এক দীর্ঘ সংগ্রাম। মা মারা যাওয়ার পর বাবা থেকেও না থাকায়, সে তার ছোট বোনকে নিয়ে নানা-নানির আশ্রয়ে বড় হচ্ছিল। সংসারে হাল ধরতে সে ওয়ার্কশপে শ্রমিকের কাজ শুরু করেছিল। এই ঘটনায় নিহতের চাচা রশিক উদ্দিন বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩–৪ জনকে আসামি করে কানাইঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
প্রশাসনের বক্তব্য দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রধান অভিযুক্ত সায়েম আহমদ গ্রেপ্তার না হওয়ায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘাতকের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জোরালো হচ্ছে। এ বিষয়ে কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে এবং দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।