বিয়ানীবাজারে উৎসবমুখর পরিবেশে জমজমাট নৌকাবাইচে উপস্থিত হয়ে অনুপ্রেরণা যোগালেন এমপি এমরান চৌধুরী

    স্টাফ রিপোর্টার:
  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 28, 2026 ইং 70 বার পঠিত
ছবির ক্যাপশন:
ad728

‘তৌহিদী জনতার’ আপত্তি আর বাধা উপক্ষো করে অবশেষে সিলেটের বিয়ানীবাজারে উৎসবমুখর পরিবেশ আর  উদ্বেগ-উত্তেজনা পেরিয়ে অবশেষে সিলেটের বিয়ানীবাজারে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য নৌকাবাইচ। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের সুনাই নদীর তৃগাংগারমুখ এলাকায় এ বাইচ অনুষ্ঠিত হয়।

এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ সংস্কৃতি-আয়োজনে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। 

বিশেষ অতিথি হিসেবে বাইচ উপভোগ করেন- উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মজুমদার, বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ আবু জাফর মো. মাহফুজুল করিম, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা এম এ বাতিন, বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আহমদ রেজা,

বিয়ানীবাজার পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নজমুল হোসেন,

উপজেলা যুবদলের  যুগ্ন আহ্বায়ক দৌলা হোসেন সুভাস। ও লাউতা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. গৌছ উদ্দিন,মুল্লাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম এ মান্নান,

সিলেটের বিয়ানীবাজার ও মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সীমান্তবর্তী সোনাই নদীতে অনুষ্ঠিত নৌকাবাইচে কোনো নৌকা বিজয়ী হয়নি।  এই প্রতিযোগিতায় সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা থেকে তিনটি নৌকা অংশ নেয়। নৌকাবাইচ দেখতে দুই উপজেলার হাজারো মানুষ নদীর দুই তীরে ভিড় করেন। 

বিকাল সাড়ে ৪টায় প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নৌকাগুলোর নাম ‘স্বাধীন বাংলা’, ‘বাঘ’ ও ‘পাগলা নাও’। নৌকাগুলোর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দর্শকদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করে। সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীও নৌকাবাইচ দেখতে উপস্থিত ছিলেন। দুপুরের পর থেকেই সোনাই নদীর দুই তীরে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ নৌকাবাইচ দেখতে জড়ো হন। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে আসেন। মাঝিদের বৈঠার ছন্দ ও দ্রুতগতির নৌকা ঘিরে নদীর দুই পাড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

এর আগে নৌকাবাইচ আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। স্থানীয় তৌহিদী জনতার ব্যানারে কয়েকজন ব্যক্তি নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি ও সভা করেন। বিষয়টি জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে এলাকায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সমাধানে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেনকে দায়িত্ব দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার রাতে চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে উপজেলার বারইগ্রাম বাজারে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও যুবসমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনার মাধ্যমে উদ্ভূত ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়। পরে লাউতা ইউনিয়নের লাউতা ও বাহাদুরপুর গ্রামের যুবসমাজের উদ্যোগে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়।