যুক্তরাষ্ট্রের নিউইর্য়ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের গোয়েন্দা বিভাগে ডিটেকটিভ প্রথম গ্রেড পদে পদোন্নতি পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বিয়ানীবাজারের মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন। তিনি সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার কুড়ারবাজার ইউনিয়নের অন্তর্গত বৈরাগীবাজার আরিজখাঁটিলা এলাকার আব্দুল খালেক ও ইরামতি বেগমের দ্বিতীয় ছেলে। সোমনার তিনি এনওয়াইপিডি’র ইতিহাসে দ্বিতীয় বাংলাদেশী হিসেবে ডিটেকটিভ প্রথম গ্রেড পদে পদোন্নতি পান ।
সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১০ ঘটিকার সময় নিউইয়র্ক পুলিশের হেড কুয়ারটারে জমকালো এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তার হাতে পদোন্নতির সনদ তুলে দেন এনওয়াইপিডির বর্তমান পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিস।
গোয়েন্দা পুলিশ ইকবাল হুসেন ১৯৯০ সালে মাত্র ৬ বছর বয়সে পরিবারের সাথে আমেরিকায় পাড়ি জমান । তিনি এখানকার স্কুলে প্রথম শ্রেণি থেকে শুরু করে কলেজ পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। তিনি প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় শেষে হাই স্কুল ফর হেলথ প্রফেশনস অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস থেকে হাই স্কুল ডিপ্লোমা অর্জন করার পর সিটি ইউনিভার্সিটি অফ নিউইয়র্ক থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন ।
গোয়েন্দা পুলিশ ইকবাল হুসেন ২০০৬ সালের জুলাই মাসে এনওয়াইপিডিতে যোগ দেন। দীর্ঘ ৬ মাস একাডেমি প্রশিক্ষণের পর তিনি প্রায় ১ বছর ৩২ প্রিসিনক্টে ২০০৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত প্রায় চার বছর ২৬ প্রিসিনক্টে ক্রাইম কন্ট্রোল এবং ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রায় তিন বছর কাউন্টার টেরিরিজম ব্যুরোর অন্তর্গত ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার কমান্ডে দায়িত্ব পালন করে ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোতে যোগ দেন ।তিনি ২০১৬ সালের জুন মাসে ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো থেকে সর্ব প্রথম ‘ডিটেকটিভ তৃতীয় গ্রেড’ পদে পদোন্নতি লাভ করে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোর ‘ফোর্স ইনভেস্টিগেটিভ গ্রুপ’ ‘গ্রুপ ৫৪’ যা পুলিশ ডিপার্টমেন্টের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং গ্রুপে যোগদান করে ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে ‘ডিটেকটিভ দ্বিতীয় গ্রেড’ পদে পদোন্নতি লাভ করেন । চরম অধ্যবসায়, প্রজ্ঞা, জ্ঞান, কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার ফলে তিনি এনওয়াইপিডির গোয়েন্দা বিভাগের সর্বোচ্চ গ্রেড ডিটেকটিভ প্রথম গ্রেড’ পদে পদোন্নতি পেয়েছেন।ইকবাল হুসেন ব্যাক্তিগত জীবনে তিন ছেলে এবং সহধর্মিনী নিলুফা বেগমকে নিয়ে সাউথ ওজন পার্কে বসবাস করেন। এই দীর্ঘ যাত্রাপথে স্ত্রী, বাবা-মা, ভাইবোন ও বন্ধুদের অসামান্য সমর্থন ও ত্যাগের কথা তিনি গর্বের সাথে স্বীকার করেন।ডিটেকটিভ ইকবাল হোসেন বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা, ক্রীড়া সংস্থা এবং সামাজিক সংগঠনের সাথে গভীর ভাবে জড়িত । ইকবাল হোসেন ও তাঁর অর্জনের জন্য পুরো কমিউনিটি অত্যন্ত গর্বিত। তাঁর এই পথচলা অনেকের জন্য বিশেষ করে যুব সমাজের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস এবং নিষ্ঠা, কঠোর পরিশ্রম, পারিবারিক সমর্থন ও অধ্যবসায়ের শক্তির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ।