সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার কুড়ারবাজার ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন রূপালী ব্যাংকের পাশে দুটি পরিত্যক্ত সরকারি ভবনে দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও জুয়ার আসর বসার অভিযোগ উঠেছে। দিনের বেলায় নির্জন ও ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করলেও সন্ধ্যা নামলেই ভবন দুটি অসামাজিক কার্যকলাপের আখড়ায় পরিণত হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভূমি অফিস ও পোস্ট অফিসের পরিত্যক্ত ভবন দুটিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগত মাদকসেবী ও জুয়াড়িদের আনাগোনা রয়েছে। প্রশাসনিক কার্যালয়ের কাছাকাছি এলাকায় এমন কর্মকাণ্ড চললেও প্রভাবশালী একটি চক্রের ভয়ে এতদিন অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পাননি বলে জানান তারা।
সম্প্রতি ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে জুয়া খেলার সরঞ্জাম ও মাদক সেবনের বিভিন্ন আলামত দেখতে পান স্থানীয়রা। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দেয়। বিশেষ করে তরুণ ও যুবসমাজের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় দ্রুত এসব কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবিতে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন সচেতন এলাকাবাসী।
লিখিত অভিযোগের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার। এ সময় তিনি পরিত্যক্ত ভবন দুটিসহ আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগের কথা শোনেন।
পরিদর্শন শেষে ইউএনও জানান, ওই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে দ্রুত সোলার লাইট ও সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রশাসনের এমন আশ্বাসে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত সরকারি ভবনকে কেন্দ্র করে চলা মাদক ও জুয়ার আসর দ্রুত বন্ধ হবে এবং ভবন দুটি নিরাপদ ও জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের উপযোগী করা হবে—এমন প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী ও সচেতন নাগরিকরা।
স্থানীয়রা মনে করেন, পরিত্যক্ত সরকারি ভবন দুটি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় সেখানে মাদক ও জুয়ার আড্ডা গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সোলার লাইট ও সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি জোরদার করা হলে এ ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে। একই সঙ্গে ভবন দুটি দ্রুত সংস্কার করে জনসেবামূলক কাজে ব্যবহার করা হলে এলাকাটি আবারও নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে পাবে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা।