শ্রীধরা জনমঙ্গল সমিতির কমিটিতে নেই প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা; ২৭ আগস্টের অনুমোদন বহাল

    সরোয়ার খান
  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 15, 2026 ইং 99 বার পঠিত
জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, সিলেট কর্তৃক অনুমোদিত শ্রীধরা জনমঙ্গল সমিতির ১৭ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কার্যকরী কমিটি ছবির ক্যাপশন: জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, সিলেট কর্তৃক অনুমোদিত শ্রীধরা জনমঙ্গল সমিতির ১৭ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কার্যকরী কমিটি
ad728
শ্রীধরা জনমঙ্গল সমিতির ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের কার্যকরী কমিটি জেলা সমাজসেবা কার্যালয় কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদনের পর একই কমিটি নিয়ে গ্রামবাসীর সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগকে ঘিরে প্রশ্ন উঠলেও নির্ধারিত আলোচনায় লিখিত আপত্তিকারীদের কেউ উপস্থিত হননি। ফলে অনুমোদিত কমিটির কার্যক্রম পরিচালনায় বর্তমানে কোনো প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা নেই বলে জানিয়েছেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা।

গত ২৭ আগস্ট জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আব্দুর রফিক স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে ৩০ জুন অনুষ্ঠিত সাধারণ পরিষদের সভায় গঠিত শ্রীধরা জনমঙ্গল সমিতির ১৭ সদস্যবিশিষ্ট কার্যকরী পরিষদকে দুই বছর মেয়াদে সংগঠনের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়, সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী গঠিত কার্যকরী পরিষদকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অনুমোদিত গঠনতন্ত্র ও সংশ্লিষ্ট আইন মেনে চলা, নিয়মিত প্রতিবেদন ও অডিট রিপোর্ট দাখিলসহ বিভিন্ন শর্ত পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

অনুমোদিত কমিটিতে সভাপতি মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন, সহ-সভাপতি মো. নজমুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. গুলজার আহমদ (রাহেল), সহ-সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান (নাবিল), সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম, কোষাধ্যক্ষ মো. মাসুক আহমদ, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিক্ষা সম্পাদক ক্বারি শুয়াইব আহমদ, সহ-সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিক্ষা সম্পাদক রাজু আহমদ, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সম্পাদক হাফিজ লুৎফুর রহমান, সহ-স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সম্পাদক জামাল আহমদ, শিল্প ও কৃষি সম্পাদক শাহ আলম, সহ-শিল্প ও কৃষি সম্পাদক আব্দুল মন্নান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক আব্দুর রউফ, প্রচার সম্পাদক আলম হোসেন, হিসাব নিরীক্ষক শামীম আহমদ, দপ্তর ও গ্রন্থাগার সম্পাদক কাওছার আহমদ সুমন এবং সহ-দপ্তর ও গ্রন্থাগার সম্পাদক আবুল হোসেন রয়েছেন।

২৭ আগস্টের অনুমোদনের প্রায় দুই সপ্তাহ পর গত ১০ সেপ্টেম্বর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে একটি নোটিশ জারি করা হয়। জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালকের মৌখিক নির্দেশের প্রেক্ষিতে দেওয়া ওই নোটিশে কার্যকরী পরিষদ নিয়ে গ্রামবাসীর সঙ্গে আলোচনার জন্য ১৩ সেপ্টেম্বর বেলা ২টা ৩০ মিনিটে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয়। নোটিশের সঙ্গে একটি অভিযোগপত্রও সংযুক্ত করা হয়।

এতে স্থানীয়ভাবে প্রশ্ন দেখা দেয়—একটি কার্যকরী কমিটিকে জেলা সমাজসেবা কার্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেওয়ার পর একই কমিটি নিয়ে পুনরায় আলোচনার প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তা কী?

বিয়ানীবাজার উপজেলা সমাজসেবা অফিসার অনুজ চক্রবর্তী বলেন, ১০ সেপ্টেম্বরের নোটিশকে অনুমোদিত কমিটি বাতিল, স্থগিত বা অবৈধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে কোন অভিযোগ বা আপত্তি কেউ জানালে তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপনের সুযোগ রয়েছে বলে জানান উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা। 

১৩ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত আলোচনায় লিখিত আপত্তিকারীদের কেউ উপস্থিত হননি বলে জানিয়েছেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা। ফলে তাদের বক্তব্য সরাসরি শোনার সুযোগ হয়নি।

দায়িত্বশীল ওই কর্মকর্তা জানান, এ অবস্থায় অনুমোদিত কার্যকরী কমিটির কার্যক্রমে কোনো প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা নেই। সংগঠনের অনুমোদিত গঠনতন্ত্র ও নিবন্ধনসংক্রান্ত বিধান অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. গুলজার আহমদ (রাহেল) বলেন, অভিযোগ এবং সরকারি অনুমোদন দুটি পৃথক বিষয়। আলোচনার জন্য নোটিশ জারি হয়েছে বলেই অনুমোদিত কমিটির কার্যকারিতা বাতিল বা স্থগিত হয়েছে—এমন ব্যাখ্যার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত সিদ্ধান্তই চূড়ান্তভাবে বিবেচ্য হওয়া উচিত।

প্রাপ্ত নথি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী এ পর্যায়ে অনুমোদিত কমিটির কার্যক্রমে কোনো প্রশাসনিক বাধা নেই। সংগঠনটির পরবর্তী কার্যক্রম অনুমোদিত গঠনতন্ত্র ও সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হবে।