বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে বিয়ানীবাজার উপজেলা শাখার ৫৩ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিয়ানীবাজারের বাসুদেব মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় আলোচনা ও উপস্থিত নেতৃবৃন্দের মতামতের ভিত্তিতে এ কমিটি গঠন করা হয়।
সভায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট সিলেট জেলার সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট পলাশ ধর-এর সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সিনিয়র সদস্য অনুপ দে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আহমেদ রেজা, পূজা উদযাপন ফ্রন্ট সিলেট জেলার আহ্বায়ক খোকন রঞ্জন দে, বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন, তিলপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান, বিয়ানীবাজার বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মির্জা মিসবাহ উদ্দিন, পূজা উদযাপন ফ্রন্ট সিলেট মহানগরের আহ্বায়ক অর্জুন ঘোষ, মহানগরের সদস্য সচিব উজ্জ্বল চন্দ্র এবং সিলেট জেলার সিনিয়র আহ্বায়ক অর্পণ ঘোষসহ সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ।
সভায় আলোচনার পর বিয়ানীবাজার উপজেলা শাখার আহ্বায়ক হিসেবে বিবেকানন্দ দাস, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রতন কর এবং সদস্য সচিব হিসেবে সুশান্ত পাল-এর নাম ঘোষণা করা হয়।
কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন কিরণ বিশ্বাস, প্রসেনজিৎ দাস, দীপেন্দ্র সরকার (ধুব), কাজল মালাকার, লিটন দাস, মনোরঞ্জন কর ও বাপ্পা চক্রবর্তী।
কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন রামেশ্বর বিশ্বাস, অমিত দাস, সুজিত দে, শৈখেন বিশ্বাস, ভাবিব বিশ্বাস, সুমি বিশ্বাস, মৃণাল ঘোষ, সুশীল দাস, বিমল দাস, বিজিত বিশ্বাস, বিষ্ণুপদ বিশ্বাস, পিংকু দাস, সুমিত বিশ্বাস, সুভাষ দাস, সুবল দাস, পানু দাস, প্রভাত দাস, সাগর দাস, রঞ্জু দাস, মৃজিত দাস, বিপুল বিশ্বাস, নিজাম দাস, বিষ্ণু দাস, লিমন দাস, অরুণ দাস, সৌরভ দেব, জিতেন্দ্র দেবনাথ, বিপ্লব পাল, আশীষ মালাকার, ধ্রুব মালাকার, তাপস কর, প্রিয়া মালাকার, সুমি দে, ললন ধর, অভিজিৎ পুরকায়স্থ, অমল পুরকায়স্থ, উজ্জ্বল মালাকার, নিখিল মালাকার, বিষু চন্দ্র, পটু দাস, চয়ন দাস ও রাজু দাস।
প্রকাশিত তালিকায় তিলপাড়া, আলীনগর, দুবাগ, শেওলা, চারখাই, লাউতা, কুড়ারবাজার ও মুল্লাপুরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন কমিটির মাধ্যমে বিয়ানীবাজার উপজেলায় পূজা উদযাপন, ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম আরও সমন্বিতভাবে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে পারস্পরিক সহযোগিতা, সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখতে সংগঠনটি কাজ করবে।
নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক বিবেকানন্দ দাস বলেন, “সভায় উপস্থিত সবার মতামতের ভিত্তিতে আমাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমি এককভাবে নয়, বিয়ানীবাজারের সব সনাতন ধর্মাবলম্বীকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই। আমাদের সম্প্রদায়ের যেসব ন্যায্য দাবি-দাওয়া ও অধিকার রয়েছে, সেগুলো নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করাই হবে আমাদের মূল লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, “সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন সমস্যা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকার নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। একই সঙ্গে বিয়ানীবাজারে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রেখে আমরা এগিয়ে যেতে চাই।”
বিবেকানন্দ দাস বলেন, “আমরা চাই সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি সংগঠিত ও কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে। কারও বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া নয়; বরং নিজেদের ন্যায্য বিষয়গুলো শান্তিপূর্ণ ও সাংগঠনিকভাবে তুলে ধরাই হবে আমাদের উদ্দেশ্য।”
তিনি বলেন, “আগামীতেও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চাই। প্রতিটি মন্দিরের জন্য যে অনুদান ও সহযোগিতা আসবে, সেগুলোকে সামনে রেখে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দুর্গাপূজাসহ ধর্মীয় উৎসবগুলো সুন্দরভাবে ও মিলেমিশে উদযাপন করতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “যেসব অনুদান ও সহযোগিতা আসবে, তা ন্যায্যতা ও সমতার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট মন্দিরগুলোর মধ্যে সমবণ্টনের মাধ্যমে বিতরণের চেষ্টা করা হবে। এ ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও পারস্পরিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এজন্য বিয়ানীবাজারের সব সনাতন ধর্মাবলম্বীর সহযোগিতা, পরামর্শ ও অংশগ্রহণ কামনা করছি। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই আমরা এগিয়ে যেতে চাই।”