‎বারহালে নির্বাচনী হাওয়া, চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় একাধিক প্রার্থী

    জকিগঞ্জ প্রতিনিধি:
  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 23, 2026 ইং 61 বার পঠিত
বারহাল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ছবির ক্যাপশন: বারহাল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীরা।
ad728
জকিগঞ্জ উপজেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত বারহাল ইউনিয়ন। নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহ্য ও শান্তিপ্রিয় মানুষের জন্য এ ইউনিয়নের রয়েছে আলাদা পরিচিতি। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এরই মধ্যে বারহালের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নির্বাচনী আলোচনা। চায়ের আড্ডা, বাজার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।
‎চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ চৌধুরী। ২০২২ সালের নির্বাচনে তিনি তৃতীয়বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে তিনি ৪ হাজার ১০৭ ভোট পেয়েছিলেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বুরহান উদ্দিন রনি, যিনি পেয়েছিলেন ৩ হাজার ৫৪২ ভোট।
‎মোস্তাক আহমদ চৌধুরী বলেন, “বারহালের মানুষ আমাকে বারবার ভালোবাসা ও আস্থা দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ। এলাকার উন্নয়নে ইতোমধ্যে অনেক কাজ হয়েছে, আবার কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে। সুযোগ পেলে অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করার পাশাপাশি রাস্তাঘাট, যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, নাগরিক সেবা ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে আরও বেশি কাজ করতে চাই। বারহালের মানুষই আমার শক্তি।”
‎চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে অলি চৌধুরীর নামও স্থানীয়ভাবে আলোচিত হচ্ছে। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত অলি চৌধুরী নির্বাচনে অংশ নিলে ভোটের মাঠে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে স্থানীয়দের অনেকে মনে করছেন।
‎অলি চৌধুরী বলেন, “বারহালের মানুষের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। আমি সবসময় মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলে জনগণের মতামত ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে একটি জনবান্ধব ইউনিয়ন পরিষদ গড়ে তুলতে চাই। উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সাধারণ মানুষের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।”
‎বুরহান উদ্দিন রনিও এবার আলোচনায় রয়েছেন। এর আগে দুই-তিনবার চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তিনি জয়লাভ করতে পারেননি। তবে সর্বশেষ নির্বাচনে বিজয়ীর খুব কাছাকাছি ছিলেন। শিক্ষক সমিতির সাবেক উপদেষ্টা এবং সিদ্দিকুর রহমান ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।
‎বুরহান উদ্দিন রনি বলেন, “নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই। কিন্তু মানুষের ভালোবাসা ও বিশ্বাসই একজন সমাজকর্মীর সবচেয়ে বড় অর্জন। আমি দীর্ঘদিন ধরে বারহালের মানুষের সঙ্গে আছি এবং ভবিষ্যতেও তাঁদের পাশে থাকতে চাই। সুযোগ পেলে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সহায়তা, শিক্ষা, যোগাযোগব্যবস্থা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং তরুণদের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে চাই। বারহালকে একটি আধুনিক, সুন্দর ও জনবান্ধব ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলাই আমার স্বপ্ন।”
‎সাবেক ইউপি সদস্য ছালিকুর রহমান নামও চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থাকায় ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে।
‎ছালিকুর রহমান বলেন, “ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় মানুষের অনেক সমস্যা কাছ থেকে দেখেছি। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সেবা মানুষের আরও কাছে নিয়ে যেতে চাই। বিশেষ করে রাস্তাঘাট, যোগাযোগব্যবস্থা, দরিদ্র মানুষের সহায়তা এবং নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে চাই।”
‎শাহবাগের সুমন চৌধুরীর নামও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছে। সামাজিক কর্মকাণ্ড ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে তিনি এলাকায় পরিচিত মুখ হিসেবে বিবেচিত।
‎সুমন চৌধুরী বলেন, “বারহাল আমাদের সবার ইউনিয়ন। দল-মত ও ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের জন্য কাজ করাই জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব। সুযোগ পেলে তরুণদের সম্পৃক্ত করে সামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা, যোগাযোগব্যবস্থা এবং নাগরিক সেবার মান বাড়াতে কাজ করতে চাই। মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থন পেলে বারহালের উন্নয়নে নিজেকে উজাড় করে দিতে চাই।”
‎তবে আলোচনায় থাকা সবাই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতা ঘোষণা করেননি। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, মনোনয়নপত্র দাখিল ও যাচাই-বাছাইয়ের পরই চেয়ারম্যান পদে প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র স্পষ্ট হবে। শেষ পর্যন্ত কারা মাঠে থাকছেন, সেটিই নির্ধারণ করবে বারহালের নির্বাচনী সমীকরণ।
‎বারহাল ইউনিয়ন জকিগঞ্জের প্রবেশদ্বার। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সম্ভাবনাময় এই ইউনিয়নের মানুষের প্রত্যাশা, নির্বাচন হবে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর। প্রার্থীরা তাঁদের পরিকল্পনা নিয়ে জনগণের কাছে যাবেন এবং ভোটাররা তাঁদের নিজস্ব বিবেচনায় জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বারহালের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় নতুন গতি আসবে, এমন প্রত্যাশাই স্থানীয় মানুষের।