চ্যাট লোড হচ্ছে...

কক্সবাজারে ‘রাজুর স্ত্রী’ পরিচয়ে হোটেলে উঠেছিল স্কুলছাত্রী তাজমিন

    স্টাফ রিপোর্টার:
  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 11, 2026 ইং 33 বার পঠিত
ছবির ক্যাপশন:
ad728


কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে।

গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুর সঙ্গে হোটেলটির ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠে তানজিম। পরদিন ৭ অক্টোবর হোটেল ছেড়ে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হয় তাজমিন। তবে বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. সুমন মিয়ার হাতে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয় সে।

পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়।

রিয়াজের এক সহকর্মীর দাবি, ঘটনার প্রায় ১৭ দিন আগে ফেসবুকের মাধ্যমে তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে তাজমিন কক্সবাজারে গেলে তারা একসঙ্গে সময় কাটান।

কক্সবাজারের কক্সেস প্যানোরামিক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর এজেন্সির আবদুল্লাহ গণমাধ্যমকে জানান, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত ৮টার পর তাজমিন ও রাজু তাদের কাউন্টারে গিয়ে বাসের টিকিট কাটেন। পরদিন বুধবারের জন্য আইকনিক এক্সপ্রেসের একটি টিকিট বুক করেন রাজু। রাজুর ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাজমিনকে বাসে তুলে দেন তিনি। বাসটি দুপুরের দিকে কুমিল্লার উদ্দেশে কক্সবাজার ছেড়ে যায়।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত পৌনে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে আসা আইকনিক এক্সপ্রেসের বাস থেকে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডের হোটেল নূরজাহানের সামনে নামেন তাজমিন। এরপর শহরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য তিনি একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করেন। কিন্তু সেই যাত্রা আর বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছায়নি।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক সুমন তাজমিনকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।