চ্যাট লোড হচ্ছে...

বাংলাদেশি ও আমেরিকানদের জোটে মিশিগানে সিনেটর এল-সাইয়েদ

    মিশিগান প্রতিনিধি
  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 4, 2026 ইং 30 বার পঠিত
ডক্টর আব্দুল এল-সাইয়েদ। ছবি: সংগৃহীত ছবির ক্যাপশন: ডক্টর আব্দুল এল-সাইয়েদ। ছবি: সংগৃহীত

মিশিগানের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বর্ণিল ও নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। প্রখ্যাত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও প্রগতিশীল নেতা ডক্টর আব্দুল এল-সাইয়েদ (Abdul El-Sayed) মিশিগান থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউ.এস. সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস তৈরি করেছেন। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচনে তাঁর এই স্মরণীয় জয়ের নেপথ্যে মিশিগানে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশী, পাকিস্তানি, ভারতীয়সহ সমগ্র এশীয় সম্প্রদায় এবং মূলধারার আমেরিকান নাগরিকদের অভূতপূর্ব ঐক্যবদ্ধ সমর্থন কাজ করেছে।

​এশীয় সম্প্রদায় ও আমেরিকানদের অভূতপূর্ব ঐক্য

​মিশিগানের রাজনীতিতে এই নির্বাচনটি ছিল বৈচিত্র্যময় ধর্ম, বর্ণ ও সংস্কৃতির মানুষের এক অপূর্ব মিলনমেলা। নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতে বাংলাদেশী আমেরিকানদের অসামান্য অবদানের পাশাপাশি পাকিস্তানি, ভারতীয় এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নাগরিকেরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছেন। সমগ্র এশীয় সম্প্রদায় সব বিভেদ ভুলে এল-সাইয়েদের পক্ষে একাট্টা হয়ে ভোট দিয়েছেন।

​এর পাশাপাশি আমেরিকার মূলধারার সাধারণ নাগরিকরাও জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব ও যোগ্যতাকে প্রাধান্য দিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোটকেন্দ্রে এসেছেন। বিশেষ করে হামট্রামক, ওয়ারেন, ডেট্রয়েট, ট্রয় এবং স্টার্লিং হাইটসে বসবাসরত এশীয় প্রবাসীদের শক্তিশালী সমর্থন এবং সাধারণ আমেরিকানদের অকৃত্রিম ভালোবাসাই এল-সাইয়েদের জয়ের প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

​প্রচারণার শুরু থেকেই কমিউনিটি লিডার, ব্যবসায়ী, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ তরুণরা দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা (Door-to-door canvassing), তহবিল সংগ্রহ এবং ভোটারদের কেন্দ্রে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। সবার জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসায়ের সুযোগ ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে তাঁর স্পষ্ট অঙ্গীকার সব শ্রেণির মানুষকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।

​মিশরীয় শিকড় থেকে শীর্ষ রাজনীতি

​আব্দুল এল-সাইয়েদের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের রোচেস্টার হিলস শহরে। তাঁর বাবা মোহাম্মদ এল-সাইয়েদ মিশর থেকে আসা একজন অভিবাসী। ধর্মবিশ্বাসে মুসলিম এই নেতা জীবনের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম, স্বজাতির ঐতিহ্য ও মানবিক মূল্যবোধকে আঁকড়ে ধরে বড় হয়েছেন।

​শিক্ষা ও অনন্য পেশাগত অর্জন

​পেশাগতভাবে আব্দুল এল-সাইয়েদ একজন বিশ্বখ্যাত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ , শিক্ষক ও চিকিৎসক। তাঁর শিক্ষাজীবন সাফল্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্তে ভরা:

  • ​মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
  • ​সম্মানিত রোডস স্কলার (Rhodes Scholar) হিসেবে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাবলিক হেলথে ডক্টরেট (Ph.D.) লাভ করেন।
  • ​আমেরিকার বিখ্যাত কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে ডক্টর অব মেডিসিন (M.D.) ডিগ্রি অর্জন করেন।

​মাত্র ৩০ বছর বয়সে তিনি ডেট্রয়েট শহরের হেলথ ডিপার্টমেন্টের নির্বাহী পরিচালক নির্বাচিত হন—যা তাঁকে আমেরিকার ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ শহর-স্বাস্থ্য প্রধানের মর্যাদা দেয়। পরবর্তীতে তিনি ওয়েন কাউন্টির স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের পরিচালক হিসেবেও অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

​সুখী পারিবারিক জীবন

​কর্মজীবনের শত ব্যস্ততার মধ্যেও এল-সাইয়েদ একজন সুনিবেদিত পারিবারিক মানুষ। তাঁর স্ত্রী ডক্টর সারা জুকাকু পেশায় একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ। এই দম্পতি দুই কন্যাসন্তানের জনক-জননী।

​নতুন দিগন্তের সূচনা

​বিজয়ী হওয়ার পর ডক্টর আব্দুল এল-সাইয়েদ তাঁর আবেগঘন বক্তৃতায় এশীয় আমেরিকান সম্প্রদায়সহ সকল ভোটারদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি অঙ্গীকার করেন, ওয়াশিংটনে মিশিগানের প্রতিটি শ্রমজীবী মানুষ, সংখ্যালঘু ও সাধারণ প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় তিনি শক্ত কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করবেন।

​বাংলাদেশী, ভারতীয়, পাকিস্তানি ও সাধারণ আমেরিকানদের এই ঐতিহাসিক ঐক্য প্রমাণ করে যে, যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে এখন প্রবাসীদের সংগঠিত অবস্থান ও প্রভাব অত্যন্ত শক্তিশালী।