মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে তাদের বাসভবনে গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত ১০টার দিকে তিনি পল্লবীতে শিশুটির পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে তিনি সরাসরি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। সেখানে তিনি শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের সমবেদনা জানান এবং ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন
কর্মকর্তারা

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
গত মঙ্গলবার (১৯ মে) পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে তার নিজ ভবনের পাশের ফ্ল্যাটের এক ভাড়াটিয়া নৃশংসভাবে হত্যা করে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে রামিসা বাসা থেকে বের হওয়ার পর অভিযুক্ত সোহেল রানা তাকে ফুসলিয়ে নিজের কক্ষে ডেকে নেয় এবং এরপর তাকে ধর্ষণ ও হত্যা করে। পরবর্তীতে পুলিশ রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ অভিযুক্তের খাটের নিচ থেকে এবং বিচ্ছিন্ন মাথা বাথরুমের একটি বালতি থেকে উদ্ধার করে।
ঘটনার দিন স্থানীয়রা অভিযুক্তের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করতে পারলেও সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়। তবে পুলিশের তৎপরতায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযুক্ত সোহেল রানা বুধবার ঢাকার আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়রা দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সোচ্চার রয়েছেন।
Sylhet 21