তীব্র গরমের মধ্যে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত এক মাস ধরে ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন উপজেলার প্রায় ৬৬ হাজার গ্রাহক। দিনে ১২ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে।
লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি লো-ভোল্টেজ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিদ্যুতের ভোল্টেজ কম থাকায় বাসাবাড়ির পানির পাম্প সচল রাখা যাচ্ছে না। এতে দেখা দিয়েছে তীব্র পানির সংকট। একই সঙ্গে নষ্ট হচ্ছে ফ্যান, ফ্রিজ, আইপিএসসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌরসভাসহ উপজেলার ১০ ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় প্রতিদিন দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকছে। পৌর এলাকায় ১১ থেকে ১২ ঘণ্টা এবং গ্রামীণ এলাকায় ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন কুড়ারবাজার, মাথিউরা ও তিলপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা। সুনামপুর সাবস্টেশন থেকে এসব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী তানবীর জানান, দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ এলেও তা ৪০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হয় না। এর মধ্যে লো-ভোল্টেজের কারণে পানির পাম্প চালানোও সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি বলেন, রাতে মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল। অসহনীয় গরমে সন্তানদের নিয়ে ঘরের বাইরে বসে রাত কাটাতে হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পাশাপাশি লো-ভোল্টেজের কারণে আইপিএসও কার্যকারিতা হারিয়েছে। তিনি আরও জানান, গত এক মাসে তার দুটি ফ্যান ও একটি ফ্রিজ বিকল হয়ে গেছে।
বিয়ানীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় প্রতিদিন ১৮ থেকে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। ৫টি সাবস্টেশনের মাধ্যমে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। তবে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ ঘাটতির কারণে এ সংকট তৈরি হয়েছে।
জোনাল অফিসের উপব্যবস্থাপক (ডিজিএম) পার্থ চক্রবর্তী বলেন, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। রোববার দুপুর ১২টায় চাহিদা ছিল ১৫.৭ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ পাওয়া গেছে মাত্র ৭.১ মেগাওয়াট।
তিনি বলেন, জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ না বাড়ানো পর্যন্ত লোডশেডিং পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা নেই।