নিজ দলের কিছু নেতার ‘অহংকার’ ও ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’কেই আওয়ামী লীগের বর্তমান রাজনৈতিক দুর্দশার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পল্লব। একই সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের হুমকি-ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও তুলেছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া তাঁর দীর্ঘ স্ট্যাটাস ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
দীর্ঘ ওই স্ট্যাটাসে আবুল কাশেম পল্লব দাবি করেন, দলের কিছু নেতার অহংকার, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়ার কারণেই আওয়ামী লীগের এমন পরিণতি একদিন হবে বলে তিনি আগেই আশঙ্কা করেছিলেন।তবে দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যাকাণ্ড, চাঁদাবাজি, সহিংসতা, ধর্ষণ এবং মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতির মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে—তা তিনি কল্পনাও করেননি বলে উল্লেখ করেন।
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি ও জামায়াতের কিছু নেতাকর্মী প্রকাশ্যে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও হামলার ঘটনা ঘটছে। তাঁর ভাষ্য, যারা বর্তমানে কঠোর অবস্থান নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে তাঁদের অনেককে এতটা সরব দেখা যায়নি।
স্ট্যাটাসে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের ব্যাখ্যা দিয়ে পল্লব বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালেও তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন এবং দলীয় পরিচয়ের কারণে কখনো অন্যায়ের পক্ষ নেননি।এ কারণে দলীয় প্রভাবশালী একটি অংশের বিরাগভাজন হতে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বুধবার রাতে তিনি আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। মিথ্যা মামলা, কারাবরণ, ব্যবসায়িক ক্ষতি, এমনকি প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে হামলার শিকার হওয়ার কথাও স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন তিনি। তবে এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি কখনো আপস করেননি বলেও দাবি করেন।
স্ট্যাটাসের একপর্যায়ে তিনি লেখেন, **“ভয় আমার ডিকশনারিতে নেই। মানুষকে হত্যা করা যেতে পারে, কিন্তু ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখা যায় না।
ক্ষমতার অস্থায়িত্বের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও লেখেন, চাঁদের পনেরো দিন অমাবস্যা, আবার পনেরো দিন জোছনা। আজ আপনার, কাল আমার।ক্ষমতায় থাকাকালে ইচ্ছাকৃতভাবে কারও ক্ষতি করেননি বলেও দাবি করেন তিনি। অনিচ্ছাকৃতভাবে কারও ক্ষতি হয়ে থাকলে মহান আল্লাহর ওয়াস্তে সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে আবুল কাশেম পল্লব দেশবাসীর শান্তি, সম্প্রীতি ও সহনশীলতা কামনা করেন এবং মহান আল্লাহর কাছে সবার ঈমানের সঙ্গে মৃত্যু নসিব করার দোয়া করেন।
উল্লেখ্য,আবুল কাশেম পল্লবের এই বক্তব্য সম্পূর্ণরূপে তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক স্ট্যাটাসে প্রকাশিত মতামতের ভিত্তিতে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। স্ট্যাটাসে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা পক্ষের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।